


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পিএফের আওতায় থাকা এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিমে পেনশন বৃদ্ধির কোনও সম্ভাবনা যে আপাতত নেই, বুঝিয়ে দিল কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রক। সেই সঙ্গে তাদের ইঙ্গিত, পেনশন বৃদ্ধি নিয়ে প্রবল চাপের মুখে আছে সরকার। তবে এখনই আশাহত হতে রাজি নন প্রবীণরা। তাঁদের আশা, বাজেটে এ সংক্রান্ত কোনো ঘোষণা থাকতে পারে। তাই কাল, রবিবার বাজেটে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন কোনো বরাদ্দ রাখেন কি না, সেদিকেই নজর পেনশনভোগীদের।
দেশে প্রায় ৮০ লক্ষ প্রবীণ পিফের আওতায় পেনশন পান। তাঁরা যাতে ন্যূনতম এক হাজার টাকা পেনশন পান, তার জন্য ২০১৪ সালের গোড়ার দিকে প্রশাসনিক পদক্ষেপ করে মনমোহন সিংহ সরকার। ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেই ব্যবস্থা চালু করেন নরেন্দ্র মোদি। তারপরও স্রেফ নিয়মের গেরোয় প্রায় ৩০ লক্ষ প্রবীণ ন্যূনতম ১ হাজার টাকা পেনশন থেকে বঞ্চিত হয়ে চলেছেন। এরপর গত ১১ বছরে আর ন্যূনতম পেনশনের অঙ্ক বাড়ানোর পথে হাঁটেনি কেন্দ্র। এই প্রেক্ষাপটে পেনশন বৃদ্ধির জন্য লড়াই শুরু করেছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। পাঁচ থেকে ন’হাজার টাকা পর্যন্ত ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধির জন্য আন্দোলন চলছে। ইপিএস-৯৫ স্কিমের আওতাধীন পেনশনভোগীদের সংগঠন ন্যাশনাল অ্যাজিটেশন কমিটি আন্দোলন করছে। তারা ডিএ ও চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে ন্যূনতম সাড়ে সাত হাজার টাকা পেনশনের দাবিতে বছরের পর বছর দেশজুড়ে আন্দোলন করে আসছে।
চলতি বাজেট অধিবেশনে সংসদে প্রশ্ন ছিল, সরকার কি ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধির জন্য কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করেছে? এ বিষয়ে সরকার কী পদক্ষপ করছে? সাড়ে সাত হাজার টাকা ন্যূনতম পেনশন দেওয়ার ক্ষেত্রে কি সরকারের কাছে কোনো আর্জি রাখা হয়েছে? এর জবাবে অবশ্য সেই গতানুগতিক কথাই বলেছে শ্রমমন্ত্রক। তারা জানিয়েছে, এই পেনশন স্কিমে কর্মীর জমা করা টাকার হারও যেমন নির্দিষ্ট, তেমন পেনশনের সুবিধাও নির্দিষ্ট। সব সুবিধা দেওয়া হয় পেনশন তহবিল থেকেই। কর্মী বা পিএফ গ্রাহক পিছু এই স্কিমের জন্য ১৫ হাজার টাকা বেতন পর্যন্ত ১.১৬ শতাংশ ভর্তুকি দেয় সরকার। এর পাশাপাশি, ন্যূনতম পেনশন ১ হাজার টাকা দেওয়ার দায় রক্ষার্থে সরকারকে বাজেট বরাদ্দ করতে হয় আলাদা করে। তবে সরকার পেনশন বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ করছে কি না, সেই প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গিয়েছে তারা। তবে তারা জানিয়েছে, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও জনপ্রতিনিধিদের থেকে পেনশন বৃদ্ধির জন্য দরবার করা হয়েছে।
ন্যাশনাল অ্যাজিটেশন কমিটির রাজ্য সভাপতি তপন দত্ত বলেন, ‘শ্রমমন্ত্রক একাধিকবার সংসদে একই জবাব দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, পেনশন বাড়াতে অর্থমন্ত্রকের তরফে বাজেট বরাদ্দ চাই। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর আমরা কেন্দ্রের থেকে শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতিই পেয়ে এসেছি। প্রধানমন্ত্রী নিজে প্রতিশ্রুতি দিলেও বঞ্চনা চলছেই। তবে আমাদের আশা, এবার বাজেটে ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধির জন্য বরাদ্দ রাখবে সরকার। দেশের প্রতিটি রাজ্যে এনিয়ে জমায়েত ও বিক্ষোভ সমাবেশ করছি আমরা। আশা করি, সুফল মিলবে। প্রধানমন্ত্রীকে বহু পেনশনভোগীর সই সংবলিত স্মারকলিপি পাঠানো হচ্ছে।’