


নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ক্যানসার রোগীদের জন্য জলপাইগুড়ি মেডিকেলে চালু হল পৃথক ফিজিওথেরাপি ইউনিট। বুধবার ক্যানসারজয়ীদের হাতেই এর উদ্বোধন হয়। উপস্থিত ছিলেন জলপাইগুড়ি মেডিকেলের সুপার ডাঃ কল্যাণ খাঁ, জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ অসীম হালদার সহ স্বাস্থ্য আধিকারিক ও চিকিৎসকরা। সার্জারির পর কিংবা দীর্ঘদিন ধরে চলা কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশনের কারণে ক্যানসার রোগীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় কিছু সমস্যা দেখা দেয়। এই অবস্থায় রোগীকে দ্রুত সুস্থ জীবনে ফেরাতে ফিজিওথেরাপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এতদিন জলপাইগুড়ি মেডিকেলে ক্যানসার রোগীদের ফিজিওথেরাপি পরিষেবা দেওয়ার জন্য আধুনিক মেশিন ছিল না। এখন থেকে সেই সমস্যা আর থাকবে না বলে জানিয়েছেন ক্যানসার বিভাগের চিকিৎসক রাহুল ভৌমিক।
এদিকে, শীঘ্রই জলপাইগুড়ি মেডিকেলে ডায়াবেটিক ও থাইরয়েড ক্লিনিক চালু হতে চলেছে বলে এদিন জানান সুপার। মেডিসিন বিভাগের অধীনে ওই ক্লিনিক দু’টি চালুর ব্যাপারে জোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। হাসপাতাল সূত্রে খবর, সব ঠিকঠাক থাকলে নতুন বছরের আগেই জলপাইগুড়ি মেডিকেলে ডায়াবেটিক ও থাইরয়েড ক্লিনিক চালু হয়ে যাবে। ওই ক্লিনিক থেকেই যাবতীয় চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন রোগীরা। এমনকী মিলবে ডায়াটেশিয়ানের পরামর্শ।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ব্রেস্ট ক্যানসার সার্জারির পর রোগীর হাত ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। জরায়ু ক্যানসারের ক্ষেত্রে রোগীর শরীরে অস্ত্রোপচারের পর পা ফুলতে শুরু করে। এসব ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি ছাড়া গতি নেই। এতদিন ফিজিওথেরাপি চললেও আধুনিক মেশিনের অভাব ছিল। ফলে ঠিকমতো পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। এখন ক্যানসার রোগীদের জন্য আলাদা ফিজিওথেরাপি ইউনিট চালু হওয়ায় এবং সেখানে আধুনিক মেশিনপত্র থাকায় পরিষেবা দিতে আর কোনও অসুবিধা হবে না।
জলপাইগুড়ি মেডিকেলের সুপার বলেন, ক্যানসার রোগীদের ক্ষেত্রে যন্ত্রণা একটি বড় বিষয়। এজন্য প্যালিয়েটিভ কেয়ার থেরাপি চালু করেছি। তাছাড়া পেইন ম্যানেজমেন্ট ক্লিনিকও চলছে। এদিন ফিজিওথেরাপি বিভাগ চালু হল। সবটাকে এক ছাতার তলায় এনে ক্যানসার রোগীদের পরিষেবা দিতে চাই আমরা। যাতে জলপাইগুড়ি মেডিকেলে চিকিৎসা করাতে এসে ক্যানসার আক্রান্তদের এখানে ওখানে ছোটাছুটি করতে না হয়, সেটাই লক্ষ্য আমাদের।
• নিজস্ব চিত্র।