


মেহবুব হোসেন সরকার, তপন: তপনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত তপন চৌরঙ্গী এলাকা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকাজুড়ে জমে রয়েছে আবর্জনার স্তূপ। তপন চৌরঙ্গী সংলগ্ন এলাকায় তপন বিডিও অফিস, পঞ্চায়েত সমিতি, তপন থানা সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর থাকা সত্ত্বেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এই করুণ চিত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সরকারের তরফে একাধিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প ও প্রশাসনের নানা কর্মসূচি চালু থাকার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণেই তপন চৌরঙ্গী এলাকা থেকে আবর্জনার স্তুপ সরানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ। এবিষয়ে তপন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কৃষ্ণা বর্মন বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে নিয়মিত আবর্জনা পরিষ্কারের ব্যবস্থা করা হবে। ডাস্টবিন বসানো ও সংগ্রহের গাড়ি চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
তপন চৌরঙ্গী থেকে চারদিকে চারটি রাজ্য সড়ক বেরিয়ে গিয়েছে। একদিকে তপন-দাড়ালহাট হয়ে বালুরঘাট, বিপরীত দিকে তপন-করদহ হয়ে নালাগোলা। একদিকে তপন থেকে গঙ্গারামপুর, অন্যদিকে তপন-লস্করহাট হয়ে বালুরঘাট যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। তপন-লস্করহাট হয়ে বালুরঘাট যাওয়ার রাস্তায়, চৌরঙ্গী থেকে কয়েক ধাপ এগতেই জাতীয় সড়কের ধারে আবর্জনার স্তূপ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় আবর্জনা ফেলার জন্য কোনও নির্দিষ্ট ডাস্টবিন বা প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো দেওয়া হয়নি। একসময় প্রশাসনের তরফে নিয়মিত আবর্জনা সংগ্রহের গাড়ি চালু করা হলেও বর্তমানে সেগুলি আর আসে না। দিনের পর দিন সেখানে আবর্জনা জমে থাকছে। আবর্জনার স্তূপ থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। পথচারী ও ব্যবসায়ীদের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। এলাকার দোকানদার ঈশ্বর সাহা বলেন, চৌরঙ্গী তপনের সবচেয়ে ব্যস্ত এলাকা। এখানে সারাদিন মানুষজন যাতায়াত করে। কিন্তু আবর্জনার গন্ধে দোকানে বসে থাকা যায় না। প্রশাসনকে বহুবার জানিয়েও কাজ হচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশ সাহা জানান, ‘আবর্জনার কারণে মশা-মাছি বেড়েছে। বর্ষা এলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় স্বাস্থ্য সমস্যার আশঙ্কা রয়েছে।’ তবে শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তবে দ্রুত কাজের দাবি তুলেছেন তপনবাসীরা। তাঁদের বক্তব্য, তপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ চৌরঙ্গী এলাকায় এই ধরনের অব্যবস্থা প্রশাসনের ভাবমূর্তিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে।