


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের রেশন কার্ড বাদ গিয়েছে। পালাবদলের সরকার আয়করদাতাদের রেশন কার্ডও বাতিল করেছে। এবার নতুন সংযোজন- চারচাকা গাড়ির মালিক, কোম্পানির ডিরেক্টর, পিএম কিষাণ ক্রেডিটে কার্ডে পাঁচ লক্ষ টাকা কিংবা তার বেশি লোন থাকা এবং জিএসটি থাকা গ্রাহকদের নাম। ওইসব গ্রাহকের রেশনকার্ড বাতিল করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এই মুহূর্তে প্রত্যেক ব্লকে সার্ভে করা হচ্ছে। তারপর রেশন কার্ড বাতিল হবে। পূর্ব মেদিনীপুরে এরকম ৬৬৯৪জনের রেশন কার্ড বাতিলের তালিকা এসেছে। আয়কর দেন এমন গ্রাহক ও তাঁদের পরিবারের প্রত্যেকের রেশন কার্ড বাতিল করে দেয় রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। যদিও বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ হয়। কারণ, পরিবারের এক সদস্য আয়কর মেটালে সকল সদস্যের কার্ড বাতিলের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের রেশন কার্ড সক্রিয় করা হয়। শুধুমাত্র আয়কর দাতার রেশন কার্ড বাতিল করা হয়। পূর্ব মেদিনীপুরে এরকম ১ লক্ষ ৪০ হাজার রেশন কার্ড নিষ্ক্রিয় করা হয়েছিল। পরবর্তীতে শুধুমাত্র আয়কর দাতা ২৮ হাজার জনের রেশন কার্ড বাতিল হয়।
এবার চারচাকা গাড়ি, কোনো কোম্পানির ডিরেক্টর, জিএসটি রেজিস্ট্রেশন থাকা, পিএম কিষাণ ক্রেডিট কার্ডে পাঁচ লক্ষ কিংবা তার বেশি ঋণ মঞ্জুর হলেই রেশন কার্ডকে সন্দেহজনক লিস্টে রেখে বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অথচ, সাধারণ চাষিদের নিয়ে গঠিত ফার্মাস প্রডিউসার অর্গানাইজেশন(এফপিও) একটি কোম্পানি হিসেবে বিবেচিত। সাধারণ চাষিরাই ওইসব সংস্থার ডিরেক্টর। সেক্ষেত্রে গোটা জেলাজুড়ে অসংখ্য এফপিও কিংবা এরকম সাধারণ সংস্থা, কোম্পানির ডিরেক্টরদের রেশন কার্ড এবার বাতিলের পথে।
রাজ্য খাদ্য দপ্তর থেকে এসংক্রান্ত তালিকা জেলায় আসার পরই পূর্ব মেদিনীপুরে ২৫টি ব্লক এবং পাঁচটি পুরসভায় সার্ভে শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের নিয়ে সার্ভে চলছে। আয়করদাতা হিসেবে রেশনকার্ড বাতিল হয়েছে সস্ত্রীক তমলুক পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান দীপেন্দ্রনারায়ণ রায়ের। তিনি বলেন, আমি আয়কর প্রদান করি। কয়েকদিন আগে দেখলাম, রেশনকার্ড নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
জেলা খাদ্য দপ্তরের এক অফিসার বলেন, মোট ৬৬৯৪ জনের রেশন কার্ড সন্দেহজনক বলে তালিকা আমাদের কাছে এসেছে। সেই তালিকা প্রত্যেক ফুড সাপ্লাই ইন্সপেক্টরের কাছে পাঠানো হয়েছে। এলাকা ভিত্তিক সার্ভে চলছে।