


নয়াদিল্লি: যন্তরমন্তরে নিট-বিক্ষোভে পুলিশের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছিলেন পড়ুয়ারা। তাঁদের দাবি, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পেলেট গান, পেরেক লাগানো লাঠি, কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছিল উর্দিধারীরা। তাতে বহু আন্দোলনকারী জখম হয়েছিলেন। কারও চোখ নষ্ট হয়েছে, কারও কান কাটা পড়েছে। এমনকি ছাত্রীদের হেনস্তা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। এবার সেই সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহানার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি ছিল। সেখানে এই ঘোষণা করে শীর্ষ আদালত। তদন্ত কমিটির মাথায় থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচরাপতি আর সুভাষ রেড্ডি। এছাড়া, পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি রবিশঙ্কর ঝা, দিল্লি হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি শালিন্দার কাউর, সিবিআইয়ের প্রাক্তন ডিরেক্টর ঋষি কুমার শুক্লা ও মেঘালয়ের অবসরপ্রাপ্ত ডিজিপি এল আর বিষ্ণোই রয়েছেন কমিটিতে। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, উচ্চ পর্যায়ের কমিটির সুপারিশ এই মামলার শুনানিতে কোর্টকে বিশেষ সাহায্য করবে। আমরা এনিয়ে আশাবাদী। দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, নিট-বিক্ষোভে মহিলা আন্দোলনকারীদের উপর হেনস্তা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। সেগুলি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত খতিয়ে দেখতে হবে। এছাড়া, পুলিশি পদক্ষেপে যাঁরা জখম হয়েছেন, তাঁদের নিয়েও বিশেষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বেঞ্চ।
নিট-বিক্ষোভে পুলিশি অতিসক্রিয়তার বহু ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল। তাতে প্রবল চাপে পড়ে মোদি সরকার। যদিও পড়ুয়াদের উপর অত্যাচারের ঘটনা মানতে চায়নি কেন্দ্র। মোদি সরকার রিপোর্টে জানিয়ে দেয়, দিল্লি বিক্ষোভে কেউ জখমই হয়নি! যদিও শীর্ষ আদালত তাদের সেই রিপোর্টে আস্থা না রেখে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গড়ে দিল বলে মত তথ্যাভিজ্ঞ মহলের। এদিকে, নিটের প্রস্তুতির মধ্যেই ফের আত্মঘাতী হলেন এক পরীক্ষার্থী। ১৯ বছর বয়সি ওই কিশোরের নাম সুরজ সুভাষ শিন্ডে। তিনি মহারাষ্ট্রের খান্ডালার বাসিন্দা। সুইসাইড নোটে সুরজ লিখেছেন, ‘পরের জন্মে ঠিক ডাক্তার হবেন তিনি।’