


নয়াদিল্লি: এফআইআর দায়ের দূর অস্ত, উলটে ‘পুরস্কৃত’ করা হয়েছিল মহিলা সাংবাদিকের যৌন হেনস্তায় অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারকে! এসিপি (কনট প্লেস) বিবেক ভগত নামে অভিযুক্ত ওই অফিসারকে সোমবার ডিসিপি পদে উন্নীত করা হয়। দিল্লি পুলিশের সাফাই, রুটিন অর্ডার। যা নিয়ে ব্যাপক হইচই শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে দিল্লি সরকারের তরফে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে বলা হয়েছে, আপাতত ডিসিপির দায়িত্ব নিচ্ছেন না বিবেক। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি স্বেচ্ছায় এই দায়িত্ব নিতে চাইছেন না বলে ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছে। ভগতের সঙ্গে আরও ১১ অফিসারের পদোন্নতি হয়েছিল। সেই বিষয়ে নতুন করে নির্দেশিকা জারি করা হবে। যদিও তাতে বিতর্ক থামছে না। কারণ, যৌন হেনস্তায় অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে এফআইআরের দাবিতে থানায় বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে আটক হয়েছেন স্বয়ং অভিযোগকারী মহিলা সাংবাদিকই। যদিও ভগতের নামে কেন এফআইআর দায়ের হচ্ছে না, সেবিষয়ে নিরুত্তর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দিল্লি পুলিশ। এসএফআইয়ের যুগ্ম সম্পাদক ঐশী ঘোষ কটাক্ষ করে এস হ্যান্ডলে লিখেছেন, ধর্ষকদের মালা পরানো হচ্ছে, আর নাগরিকদের জেলে পোরা হচ্ছে। এটাই নয়া ভারত। মহিলা সাংবাদিককে হেনস্তার ঘটনায় অভিযুক্ত এসিপি বিবেক ভগত অ্যাডিশনাল ডিসিপি পদে প্রোমোশন পেয়েছেন। যদি দেশে অপরাধী হন, তবে নিশ্চিতভাবেই আপনার প্রোমোশন হবে।
প্রতিবাদস্থলে মহিলা পুলিশকর্মী নেই কেন? প্রশ্ন করায় যৌন হেনস্তা করেছেন খোদ অ্যাসিসটেন্ট কমিশনার অব পুলিশ (এসিপি)। শনিবার যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ চলাকালীন এই অভিযোগ তুলেছিলেন এক মহিলা সাংবাদিক। একই অভিযোগ করেন আরও দুই মহিলা সংবাদিক। ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে উত্তাল হয় দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে হবে। যদিও সোমবার সকালে প্রতিবাদীদেরই আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, অন্তত ১৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ফ্রিল্যান্স রিপোর্টার, ইউটিউবারদের পাশাপাশি আটক করা হয়েছে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তোলা মহিলা সাংবাদিকদের একজনকেও। ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ নেহা যাদবের বক্তব্য, ১৬৩ ধারা জারি থাকায় পাঁচ বা তার বেশি ব্যক্তির জমায়েত নিষিদ্ধ। ফলে আগাম লিখিত অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভ বা ধরনায় অংশ নেওয়া যায় না।