


সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: সাইবার প্রতারণার শিকার হওয়ায় বিষ্ণুপুরের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দাদের হাতে উদ্ধার হওয়া কয়েক লক্ষ টাকা ফিরিয়ে দিল পুলিশ। এলাকায় গিয়ে প্রতারিতদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চেক তুলে দেওয়া হয়। টাকা ফেরত পেয়ে তাঁরা ভীষণ খুশি হয়েছেন। জেলা পুলিশ তথা পুলিশের সাইবার বিভাগের প্রতি তাঁরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম ধাপে গ্রামাঞ্চলের প্রতারিতদের হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। শহরাঞ্চলেও বেশ কয়েকজন রয়েছেন। তাঁরা বিভিন্ন সময়ে সাইবার প্রতরণার শিকার হয়েছিলেন। পরের ধাপে তাঁদের হাতেও উদ্ধার হওয়া অর্থের চেক তুলে দেওয়া হবে।
বাঁকুড়া জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, বিষ্ণুপুরের ৯টি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ১৫জনের হাতে কয়েক লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশের উদ্যোগে প্রতিটি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায় বিশেষ শিবির করা হচ্ছে। সেখানেই তাঁদের হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়। কিছুদিনের মধ্যেই শহরেও একই কর্মসূচি পালন করা হবে। সেখানে শহরের প্রতারিতদের হাতে উদ্ধার হওয়া অর্থ তুলে দেওয়া হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আইন শৃঙ্খলা দেখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় জনসংযোগ ঘটানোর জন্য গত কয়েকবছর ধরে পুলিশ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। খেলাধুলো থেকে শুরু করে নানা সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি বাঁকুড়া জেলা পুলিশের উদ্যোগে এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগ দাবি দাওয়া জানতে বিশেষ শিবির করা হয়। শিবিরে মানুষের দাবির কথা লিপিবদ্ধ হয়। আইন শৃঙ্খলার পাশাপাশি রাস্তাঘাট, পানীয় জল, বিদ্যুতের মতো সমস্যাও পুলিশের শিবিরে উঠে আসে। সেই দাবি পূরণের জন্য পুলিশ কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তাও সাধারণ মানুষকে জানানোর জন্য ফলোআপ শিবিরও করা হচ্ছে। সেখানেই অন্যান্য দাবি পূরণের পাশাপাশি সাইবার প্রতারণার শিকার হওয়া বাসিন্দাদের হাতে উদ্ধার হওয়া অর্থের চেক আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের ওই উদ্যোগকে তাঁরা সাধুবাদ জানিয়েছেন।
পুলিশ আধিকারিকরা বলেন, প্রতিটি শিবিরে স্থানীয় প্রতিবন্ধীদের হুইল চেয়ার দেওয়া হচ্ছে। দুঃস্থ ছাত্রছাত্রীদের ব্যাগ দেওয়া হচ্ছে। বেশ কিছু হারানো মোবাইল তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাস্তা, পানীয় জল এবং বিদ্যুতের সমস্যার ক্ষেত্রে সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে দ্রুততার সঙ্গে তা সমাধান করা হচ্ছে।
বিষ্ণুপুরের ভগৎ সিং মোড় এলাকার বাসিন্দা অতনু মল্লিক ঠাকুর বলেন, গ্রামের সাবমার্সিবল পাম্পের বিদ্যুতের বিল কয়েকমাস ধরে আসছিল না। সেজন্য আমি বিদ্যুৎ দপ্তরে গিয়ে খোঁজ করেছিলাম। তার দু’-তিন দিন পরে এক ব্যক্তি নিজেকে বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিক পরিচয় দিয়ে আমাকে ফোন করে। ৪০হাজার টাকা বিদ্যুতের বিল পাঠায়। তা অনলাইনে দেওয়ার জন্য একটি লিঙ্কও পাঠায়। আমি বিশ্বাস করে ওই লিঙ্ক খুলি। তারপরেই আমার অ্যাকাউন্ট থেকে ৪০হাজার টাকা কেটে নেওয়া হয়। পরে বুঝতে পারি আমি প্রতারিত হয়েছি। সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ জানাই। ওই টাকা আমি ফেরত পেয়েছি। এর জন্য জেলা পুলিশকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। -নিজস্ব চিত্র