


সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: বাড়িতে চলছিল বিয়ের আসর। এসেছিল আমন্ত্রিত অতিথিরাও। কিন্তু বিয়েবাড়িতে হঠাৎ করেই হাজির হল পুলিস। কারণ বিয়ে হচ্ছিল এক নাবালিকার। পুলিসকর্মীদের দেখে চম্পট দেয় ওই নাবালিকা ও পাত্রের বাবা ও মা। তবে শেষরক্ষা হয়নি পাত্রের। ধরা পড়ে যায় পুলিসের জালে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে ময়নাগুড়ি থানার পুলিস। ঘটনাটি ঘটেছে ময়নাগুড়ি রামসাই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার হাতিপোঁতা গ্রামে। পাত্রের বাড়ি ওই এলাকায় এবং পাত্রীর বাড়ি জলপাইগুড়িতে।
বুধবার রাতে ময়নাগুড়ি থানায় গোপন সূত্রে খবর আসে যে এক যুবকের সঙ্গে নাবালিকার বিয়ে হচ্ছে। নাবালিকার বয়স ১৬ বছর এবং পাত্রের বয়স ১৯ বছর। সেই খবর পেয়ে অভিযান চালায় পুলিস। উপস্থিত ছিলেন সিডিপিও সুদীপ তামাং। একদিকে বাল্যবিবাহ বন্ধে একের পর এক প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে পুলিস। নারী ও শিশু বিকাশ ও সমাজ কল্যাণ বিভাগের পক্ষ থেকেও প্রচার করা হচ্ছে। বিভিন্ন পোস্টার ও ব্যানার টাঙানো হয়েছে। যেখানে চাইল্ড হেল্পলাইন নম্বর ১০৯৮ দেওয়া রয়েছে। কিন্তু এরপরেও কিছু শ্রেণির মানুষ প্রশাসনের এই নির্দেশ না মেনে বাল্যবিবাহ দিচ্ছে। আর সেটারই প্রমাণ পাওয়া গেল এদিন ময়নাগুড়ির হাতিপোঁতা এলাকায়।
ময়নাগুড়ি থানার পুলিস জানিয়েছেন, খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। ধৃতের নাম সুমন সরকার। অভিযুক্ত যুবক ও নাবালিকার বাবা ও মায়ের বিরুদ্ধেও অভিযোগ জমা হয়েছে। অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। তাদের খোঁজ চলছে।
ময়নাগুড়ি থানার আইসি সুবল ঘোষ বলেন, বাল্যবিবাহ রোধে আমাদের লাগাতার প্রচার চলছে। সেইসঙ্গে চলছে অভিযানও।