


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সপ্তমীর সকাল বা অষ্টমীর দুপুরে সমস্যা নেই। কিন্তু সন্ধ্যে নামলেই যুবক যুবতীদের মধ্যে শুরু হয়ে যায় স্টান্টবাজি। অনেকে আবার গলায় চার পেগ ঢেলে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরতে থাকেন। নিজের খেয়ালে কী করছেন অনেক সময় তা তাঁদের মাথাতে থাকে না। ইভটিজিং করতেও তারা ছাড়ে না। শুরু হয়ে যায় অশান্তি। কিন্তু এবার আর সেসব চলবে না। পুজো মণ্ডপে সাদা পোশাকে বিশেষ মেশিন হাতে ঘুরবে পুলিশ। মদের গন্ধ এলেই মুখে কাছে তাঁরা বাড়িয়ে দেবেন ওই মেশিনটি। কতটা অ্যালকোহল শরীরে রয়েছে তা সহজেই বোঝা যাবে। আর তখনই পুজো মণ্ডপ ছেড়ে যেতে হবে থানায়। পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার পুষ্পা বলেন, মণ্ডপে কোনো বেয়াদপি বরদাস্ত করা হবে না। উৎসবের দিনগুলিতে কেউ দ্রুতগতিতে বাইক চালালে তার বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। সাদা পোশাকে পুলিশ সব জায়গায় টহল দেবে। এছাড়া রাস্তায় থাকছে দুর্গাবাহিনী।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৫ অক্টোবর থেকে শহরে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। কাটোয়া রোড, কালনা রোড, কানাইনাটশাল, গোলাপবাগ মোড়, আলিশা মোড়, নবাবহাট, পালার শ্রীরামপুরে পণ্যবাহী গাড়ি দাঁড় করানো হবে। বিকাল চারটে থেকে ভোর চারটে পর্যন্ত এই নিয়ম কার্যকর থাকবে। কালনা, কাটোয়া, গুসকরা শহরেও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পুজো দেখতে বেরিয়ে কেউ যাতে সমস্যায় না পড়েন তারজন্য ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশ সহয়তা ক্যাম্প থাকবে।
এক আধিকারিক বলেন, রাতের দিকে এক শ্রেণির যুবক যুবতী বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। পুজো মণ্ডপে সামনে নিজেদের ‘রোমিও’ হিসাবে তুলে ধরার মরিয়া চেষ্টা করে। নিজেদের দিকে নজর ঘোরানোর জন্য তারা যুবতীদের লক্ষ করে কটূক্তি ছুড়ে দেয়। সেই কারণে এবার ষষ্ঠীর সন্ধ্যা থেকেই পুলিশ বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে। শহরজুড়ে টহলদারির পাশাপাশি বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে সাদা পোশাকে পুলিশ থাকবে। এছাড়া প্রতিটি পুজো কমিটিকে সিসি ক্যামেরা লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহিলা ভলান্টিয়ার রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুজো কমিটিরগুলির সঙ্গে আধিকারিকরা বৈঠক করে শর্তাবলী জানিয়ে দিয়েছেন। শহরের একটি পুজো কমিটির সদস্য অনীশ দাস বলেন, এবার পুজো ঘিরে মানুষের মধ্যে অন্য রকম আবেগ তৈরি হয়েছে। চতুর্থীর সন্ধ্যাতেই অধিকাংশ পুজো মণ্ডপের উদ্বোধন হয়ে যাবে। আগে কার্নিভালের জন্য দ্বাদশীর দিন বিসর্জন দিতে হতো। এবার কার্নিভাল হচ্ছে না। মণ্ডপে দশমীর পর আরও কয়েকটা দিন প্রতিমা দেখার সুযোগ পাওয়া যাবে। দর্শনার্থীরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন।
ছবি এআই।