


দিবাকর মজুমদার, ইটাহার: নদীভাঙন প্রতিরোধ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কাজ হলেও সুই ও মহানন্দা নদীতে ব্রিজ নির্মাণের দীর্ঘদিনের দাবি যদি পূরণ হত!
ইটাহারবাসীর দাবি, নদীভাঙন ঠেকাতে বোল্ডার পাইলিংয়ের কাজ হয়েছে। তবে পারাপারের স্থায়ী সমাধান হিসাবে ব্রিজ না হওয়ায় ভোগান্তি কমেনি। নৌকা ও বাঁশের সাঁকো আজও ইটাহারের একাধিক অঞ্চলের মানুষের একমাত্র ভরসা। সব মিলিয়ে উন্নয়ন বনাম অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি-এই চর্চা চলছে ইটাহারের রাজনীতি ও জনজীবনে।
গত পাঁচ বছরে বিধায়ক তহবিল ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অর্থে ইটাহার ব্লকের গ্রামীণ উন্নয়নে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার কাজ হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিধায়ক মোশারফ হোসেন। জানান, রাস্তাঘাট, বিশুদ্ধ পানীয় জল, স্ট্রিট লাইট, আদিবাসী সংস্কৃতির উন্নয়নে কমিউনিটি হল, স্বাস্থ্য পরিষেবায় আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স, একাধিক সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র ছাড়াও অনেক কাজ করা হয়েছে পাঁচ বছরে। শুধুমাত্র বিধায়ক তহবিল থেকেই প্রায় ২ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে।
বিধায়ক তহবিলের অর্থে ৩০ লাখের দু’টি অ্যাম্বুলেন্স, একটি ২৫ লাখের আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স, পাঁচ লক্ষে সাংস্কৃতিক মঞ্চ, শ্মশান চুল্লি ও প্রতীক্ষালয়, আই ক্লিনিক, ২৫টি সিসি ক্যামেরা ছাড়াও বিশ্ববাংলা গ্লোব ও ফোয়ারা, একাধিক মনীষীর পূর্ণাবয়ব মূর্তি প্রতিস্থাপন সহ সৌন্দর্যায়নের কাজ করা হয়েছে ইটাহারে। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের অর্থানুকূল্যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ৩ কোটি ১৩ লক্ষ টাকায় ২০টি আধুনিক সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র, প্রায় ৫০ কোটি টাকায় ১২টি বড় পিএইচই জল প্রকল্প, নদীভাঙন প্রতিরোধে প্রায় ২২ কোটি টাকায় ১১ কিলোমিটার বোল্ডার পাইলিংয়ের কাজ, ২০ কোটি বরাদ্দে দীর্ঘ ১১ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ও ৯ কোটি টাকায় ৮ কিলোমিটার পেভার ব্লক রাস্তা হয়েছে। এছাড়া, বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতে ২১ কোটি বরাদ্দে ৩৩/১১ কেভি সাব-স্টেশন বাস্তবায়ন হওয়ায় বিদ্যুতের সমস্যা মিটেছে। রয়েছে শতাধিক মিনি পানীয় জল প্রকল্প, কয়েকশো হাইমাস্ট ও সোলার লাইট, পেভার ব্লক ও ঢালাই রাস্তা, বক্স ব্রিজ এবং গোরস্থানের বাউন্ডারি ওয়াল, স্কুল বিল্ডিং এর সংস্কার করা হয়েছে।
কিন্তু দমকল কেন্দ্রের নির্মাণ শুরু না হওয়া এবং কঁচুয়া, মারনাই ঘাট ও বাড়িওলে বড় ব্রিজ না হওয়ায় আক্ষেপ সাধারণ মানুষের। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সাত্তারের কথায়, কোনো বিধায়ক, নেতা, মন্ত্রী এখানে ব্রিজ আর করে দিলেন না। এটাই আমাদের একমাত্র আক্ষেপ। আর এক বাসিন্দা কিশোর দাস বলেন, গ্রামীণ হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও দমকল কেন্দ্র ইটাহারবাসীর কাছে অত্যন্ত জরুরি ছিল।
বিধায়কের দাবি, কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কারণেই মূলত ব্রিজ নির্মাণ সম্ভব হয়নি। তবে, দমকল কেন্দ্রের সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং শীঘ্রই কাজ শুরু হবে। পুনরায় সুযোগ পেলে অসম্পূর্ণ কাজ করব। এদিকে, বিধায়কের পাঁচ বছরের কাজের খতিয়ান নিয়ে কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস ও বিজেপি। কংগ্রেসের জেলা সাধারণ সম্পাদক কামরুল হকের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের দুর্দশা মেটেনি। শুধু উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকার কাটমানি নেওয়া হয়েছে ইটাহারে। আবার বিজেপির জেলা সম্পাদক সবিতা বর্মনের দাবি, উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। বিধায়ক ও প্রশাসনের গোপন আঁতাতে লুটতরাজ চলছে। • মোশারফ হোসেন।