


নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: ইংলিশবাজারে জনবিস্ফোরণ! প্রতি বর্গ কিলোমিটারে যেখানে ৭৫০ থেকে এক হাজার মানুষের বাস করার কথা, সেই জায়গায় শহরে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে থাকছেন ২৫ হাজার মানুষ। স্বাভাবিকভাবেই দিন দিন ঘিঞ্জি হচ্ছে মালদহ। কার্যত একজনের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছেন অন্যজন।
এখনই পরিস্থিতির মোকাবিলা না করলে বিভিন্ন সমস্যা ঘোরালো হবে। তাই অবিলম্বে পুর এলাকা সম্প্রসারণের প্রস্তাব রাজ্যের কাছে পাঠিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। যা নিয়ে সোমবার ফের একবার আলোচনায় বসে পুরসভার ‘বোর্ড অফ কাউন্সিলর্স’। এদিন পুরসভার বৈঠকে শহর সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। এদিন চেয়ারম্যান বলেন, আমরা যদুপুর ১ এবং ২, কাজীগ্রাম, সাহাপুর ও কোতয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েত অঞ্চলের কিছু অংশ ইংলিশবাজার পুরসভার অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব গ্রহণ করেছি। যা ইতিমধ্যেই রাজ্যের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ইংলিশবাজার পুর এলাকার জনঘনত্ব বিগত কয়েক বছরে পঁচিশ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইংলিশবাজার শহর সম্প্রসারণের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এদিন কৃষ্ণেন্দু আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বর্গ কিলোমিটারে সাড়ে সাতশো থেকে এক হাজার মানুষের থাকার কথা। অথচ আমাদের শহরে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ২৫ হাজার মানুষ বসবাস করছেন।
মালদহ একটি নদী ভাঙন প্রবণ জেলা। গঙ্গা ভাঙন এখানকার অন্যতম বড় একটা সমস্যা। ফলে ভাঙন কবলিত মানিকচক, রতুয়া কালিয়াচকের একাংশের বহু মানুষ এখন শহরমুখী। ভৌগলিক অবস্থানের দিক থেকেও মালদহ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত, আরেকদিকে নদীপথে বিহার এবং ঝাড়খণ্ড সীমানা। রেল মানচিত্রেও মালদহ টাউন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি স্টেশন। চিকিৎসা পরিকাঠামো থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাণিজ্যের দিক থেকেও মালদহ শহর খুব ভালো জায়গায় রয়েছে। স্বাভাবিকভাবে আদি বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশেপাশের বহু অঞ্চলের মানুষ নানা কারণে এখন মালদহের ওপর নির্ভরশীল।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের মোট আয়তনের মাত্র ৫০ শতাংশ অংশে মানুষ বসবাস করছেন। বাকি ৫০ শতাংশ এলাকার মধ্যে রয়েছে সরকারি জমি। যেখানে পুকুর, খেলার মাঠ, ডিএসএ, রেলওয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে।