


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ‘রানার’রা এখন ডেলিভারি স্টাফ। পুরনো সাইকেলে প্যাডেল ঘুরিয়ে আর তাঁরা গ্রামের অলি-গলিতে ঘুরবেন না। তাঁদের বাহন এখন ইলেকট্রিক স্কুটার। পিছনে থাকবে বড় বাক্স। তাতে লেখা, ‘ইন্ডিয়া পোস্ট’। ঠিক যেমন অনলাইন ‘ডেলিভারি বয়’দের বাইকে বাক্সের গায়ে বেসরকারি সংস্থার নাম লেখা থাকে। বেসরকারি সংস্থাগুলির সঙ্গে টক্কর দিতেই কোমর বেঁধে নামছে ডাকবিভাগ। লক্ষ্য একটাই—চড়া প্রতিযোগিতার বাজারে দ্রুত পার্সেল পৌঁছে দেওয়া।
পার্সেল ডেলিভারির জন্য ই-স্কুটার—এই সংক্রান্ত পাইলট প্রজেক্ট নেওয়া হয়েছিল ২০১৮ সালে। তখন বেছে নেওয়া হয়েছিল শরৎ বোস রোড ডাকঘরকে। কোভিড লকডাউনের সময় তাকেই বড় আকারে নামানোর কথা ভাবে ডাকবিভাগ। ই-স্কুটার কেন? কারণ, এই যান চালাতে লাইসেন্স প্রয়োজন হয় না। তখন পার্সেল ডেলিভারির জন্য কলকাতায় কর্মীদের জন্য ৫১টি ই-স্কুটারের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। এবার সেটাই গোটা দেশে ছড়িয়ে দিতে চলেছে ইন্ডিয়া পোস্ট। এখন প্রতিটি রাজ্যেই ‘ডেলিভারি সেন্টার’ বা ডেলিভারি হাব তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানেই আসবে স্পিডপোস্ট, পার্সেল। ডেলিভারি স্টাফরা স্কুটারে চাপিয়ে তা দ্রুত বাড়িতে পৌঁছে দেবেন। এতদিন সেইসবই আসত স্থানীয় পোস্ট অফিসে। সময় লাগত অনেক বেশি। কিন্তু এক্ষেত্রে তেমনটা হবে না বলে আধিকারিকদের দাবি। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে সারা দেশে ২১৫টি ডেলিভারি সেন্টার তৈরি হবে। এরাজ্যে ১৫টি। এছাড়া উত্তরপ্রদেশে ১০, তামিলনাড়ুতে ২০, কর্ণাটকে ১৬টি ডেলিভারি সেন্টার পরিকল্পনায় রয়েছে। কোন কোন শহরে ডেলিভারি সেন্টারগুলি হবে, তা ৩১ মার্চের মধ্যে ঠিক করতে বলা হয়েছে। কতজন ডেলিভারি স্টাফ ওই কেন্দ্রগুলির জন্য প্রয়োজন, সেটাও ওই সময়ের মধ্যেই পাঠাতে হবে। নির্দেশ হয়েছে, প্রতিটি ডেলিভারি সেন্টার একসঙ্গে চালু করতে হবে ৩০ জুন।
এক আধিকারিক বলেন, এই পরিষেবা চালু হলে ডাকবিভাগের গতি বাড়বে ঠিকই। কিন্তু এর অন্য দিকও রয়েছে। বিশেষ করে রেজিস্ট্রি চিঠির ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। যাঁর নামে চিঠি আসে, তাঁকেই সেটি দিতে হয়। ডাককর্মীরা বাড়ি গিয়ে তা পৌঁছে দেন। কেউ বাড়িতে না থাকলে স্থানীয় পোস্ট অফিসে সেটি জমা করা হয়। পরে যাঁর চিঠি, তিনি সেখান থেকে নিয়ে যান। এই পরিষেবা চালু হলে রেজিস্ট্রি চিঠি ডেলিভারি সেন্টারে ফিরে যাবে। ডেলিভারি সেন্টার সব জায়গায় থাকবে না। দূরের কোনও শহর থেকে সেই চিঠি আনতে হবে। তবে এটাও ঠিক, দ্রুত পার্সেল গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে ডাকবিভাগের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। আয়ও বাড়বে। তবে এধরনের কেন্দ্র আরও বেশি সংখ্যায় তৈরি করা দরকার। তা না হলে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
ডাকবিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, ডেলিভারি স্টাফদের কাছে ইলেকট্রিক স্কুটার থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রয়োজন মতো কর্মীও থাকবেন। তাঁদের এলাকা ভাগ করে দেওয়া হবে। স্কুটারেই দ্রুত তাঁরা পার্সেল যে কোনও বাড়িতে পৌঁছে দিতে পারবেন।