


সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: আগামী ৬ মার্চ রঘুনাথপুর বিধানসভার অন্তর্গত নিতুড়িয়া ব্লকের দিশের ডিসেরগড় ঘাট থেকে বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা শুরু হবে। অথচ তার আগে রঘুনাথপুর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক বিবেকানন্দ বাউরির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগে পোস্টার পড়ল। পোস্টার পড়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার রঘুনাথপুর শহরের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টারগুলি নজরে আসতেই জোর চর্চা শুরু হয়। এর জেরে অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি। পোস্টারে দাবি করা হয়েছে, বিজেপি প্রার্থী হিসেবে নতুন মুখ চাই। পাঁচ বছর অন্ধকারে কেটে গেল। না এলাকার কোনো কাজ করল, না মানুষের পাশে থেকে উপকার করেছে। তাই বহিরাগত ব্যক্তিকে যেন টিকিট না দেওয়া হয়। উচ্চতর নেতৃত্বের কাছে দাবি জানাচ্ছি। যদিও বিজেপি বিধায়কের দাবি, তৃণমূলের ছোট নেতারা একাজ করেছে। তৃণমূলের দাবি, এটা বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দলের জের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলি ইতিমধ্যেই বিধানসভা নির্বাচনের জোর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। প্রতিটি এলাকায় দেওয়ালে প্রার্থীর নাম বাদ রেখে প্রতীক চিহ্ন আঁকার কাজ শুরু হয়েছে। এখন টিকিটের জন্য নেতা নেত্রীরা কলকাতা মুখী। বিজেপির একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, গতবারের জয়ী বিবেকানন্দবাবুরই টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ, কলকাতা নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক। তিনি হাইকোর্টের আইনজীবী হওয়ায় বেশিরভাগ সময় কলকাতাতেই থাকেন। সেজন্য দলের অন্দরে ক্ষোভ রয়েছে। তাই এক নেত্রী সহ আরও কয়েকজন প্রার্থী হতে চেয়ে বিজেপির সদর দপ্তরে নাম জমা দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে বিজেপির কোন পক্ষ পোস্টার সাঁটিয়েছে তা বলা যাচ্ছে না।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বিধানসভা নির্বাচনে বিবেকানন্দবাবুকে দলের একটি পক্ষ প্রার্থী হিসাবে চাননি। নির্বাচনে কয়েক মাস আগে রঘুনাথপুরে এসে তিনি বিজেপির আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন। সেই সময় দলের হয়ে যারা লড়াই করেছিল দল তাঁদের কাউকে প্রার্থী না করায় ক্ষোভ দেখা গিয়েছিল। তৃণমূলের তরফ থেকেও সেই সময় প্রচারে বিজেপি প্রার্থীকে বহিরাগত বলে তকমা দিয়েছিল। ভোটে জেতার পর বিধায়ককে এলাকায় দেখা যায় না বলে দলের অন্তরে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ রয়েছে। সেই পক্ষই কি বিধায়কের বিরুদ্ধে পোস্টার সাঁটাতে মদত দিচ্ছে?
যদিও বিবেকানন্দবাবুর দাবি, বিজেপিতে থেকে তৃণমূলের কাছে কাটমানি পাওয়া কিছু ‘ছাঁটমাল’ একাজে যুক্ত। তৃণমূলের কাটমানিতেই তাঁদের সংসার চলে। পাঁচ বছর মানুষের পাশে থেকে কাজ করে গিয়েছি। যদি সৎসাহস থাকে আমার সামনাসামনি হোক। সমস্ত তথ্য তুলে দেব।
তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি হাজারি বাউরি বলেন, এই পোস্টারে বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দলই প্রকাশ পেয়েছে। পাঁচ বছরে বিজেপি বিধায়ককে এলাকার কোথাও দেখা যায়নি। কোনো উন্নয়নমূলক কাজও করেননি। যদি সত্যি তিনি এলাকায় কাজ করেছেন তাহলে তাঁর দল তাঁকে টিকিট দিক। মানুষ এবার ভোটে তার জবাব দেবে। -নিজস্ব চিত্র