


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বাড়ির অমতে মাস ছয়েক আগে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন যুবতী। বুধবার ভোরে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ঘোলা থানার উত্তর যোগেন্দ্রনগর এলাকার ঘটনা। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম পূজা মণ্ডল (১৯)। যুবতীর বাপের বাড়ির লোকেদের অভিযোগ, গলায় ফাঁস দিয়ে ওই অন্তঃসত্ত্বা যুবতীকে খুন করা হয়েছে। পুলিশ ওই যুবতীর স্বামী বাবলা হরিজন ওরফে ঋষি, শ্বশুর রাকেশ হরিজন ও শাশুড়ি শকুন্তলা হরিজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের এদিন বারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। বিচারক বাবলাকে চারদিনের পুলিশ হেপাজত ও বাকিদের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
মৃত পূজা মণ্ডলের বাড়ি নিউ বারাকপুরের লেনিনগর পেয়ারাবাগান এলাকায়। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ঘোলার উত্তর যোগেন্দ্রনগরের যুবক বাবলার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল প্রেম করে, বাড়ির অমতে। প্রথম দিকে বাপের বাড়ির সঙ্গে কোনো যোগাযোগও ছিল না পূজার। অভিযোগ, বাবলা কোনো কাজ করতেন না। পরিবারের আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। পূজাকে বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে চাপ দিতেন। এমনকী, অন্তঃসত্ত্বা পুজাকে ঠিকমতো ডাক্তারের কাছেও নিয়ে যেতেন না।এছাড়া আর্থিক অনটনের কারণে সংসারে প্রায়ই ঝামেলা হতো।
বুধবার সকালে বাপের বাড়িতে ফোন করে জানানো হয়ে যে, পূজা অসুস্থ। তাঁরা এসে খাটের নীচে পূজার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। মৃত যুবতীর মামা গৌতম বিশ্বাস বলেন, ভাগ্নির বিয়েতে আমরা কেউ রাজি ছিলাম না। জোর করে বিয়ে করে। বিয়ের পর টাকার জন্য ভাগ্নির উপর অত্যাচার করত। ও ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। ডাক্তার দেখাতো না। আমরাই হাসপাতালে নিয়ে যেতাম। এদিন সকালে আমাদের জানানো হয় যে, পূজা অসুস্থ। আমরা এসে দেখি বাড়িতে কেউ নেই। খাটের নীচে দেহ পড়ে আছে। গলায় দড়ির ফাঁসের দাগ।আমাদের ধারণা, ভাগ্নিকে খুন করা হয়েছে। ওদের কঠোর শাস্তি চাই। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পরই মৃত গৃহবধূর স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।