


সংবাদদাতা, কাঁথি: আগামী ২৭ জুন রথযাত্রা। এই প্রথম সৈকত শহরে সরকারি উদ্যোগে গড়াবে রথের চাকা। তার আগে রাস্তাঘাট, নিকাশি পরিষ্কারের কাজ চলছে। রথে চেপে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা ওল্ড দীঘার মাসির বাড়িতে যাবেন। রাস্তায় রথ চলতে যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তারজন্য দীঘা-নন্দকুমার ১১৬ বি জাতীয় সড়কের পাশে গাছের ডালপালা ছাঁটার কাজ চলছে। চলছে বিদ্যুতের তার সহ বিভিন্ন বাধা সরানোর কাজ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রথ যাতে নির্বিঘ্নে যেতে পারে, তারজন্য কিছু গাছের ডালপালা ছাঁটা হচ্ছে। অন্যদিকে, বর্ষা শুরুর মুখে দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের নিকাশি ব্যবস্থা ঢেলে সাজার কাজ চলছে। মন্দিরের চারদিকে আগেই জল নিকাশির ড্রেন তৈরি হয়েছে। তবে বৃষ্টি বেশি হলে সেই ড্রেন দিয়ে জল বের হতে অনেক বেশি সময় লাগে। মন্দিরের সামনের রাস্তায় জল দাঁড়িয়ে যায়। রাস্তার নোংরা জলে ভেজা পায়ে মন্দিরের মূল প্রবেশদ্বারে ঢুকতে গিয়ে ভক্তদের সমস্যা হচ্ছে। তাই নিকাশি ব্যবস্থা ঠিকঠাক করার কাজ চলছে। যখন রথযাত্রা হবে, তখন ভরা আষাঢ় মাস। তার আগেই নিকাশির কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, মন্দিরের ছ’ নম্বর গেট থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে পর্যন্ত মাটি খুঁড়ে ফের নর্দমা তৈরি করা হচ্ছে। নালার উপরের অংশে কংক্রিট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হবে। বর্ষাকালে ওই কংক্রিটের উপর দিয়ে ভক্তরা মন্দিরে ঢুকতে ও বেরতে পারবেন। জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী বলেন, নিকাশি নালার উপর কংক্রিটের চ্যানেল তৈরি করা হচ্ছে। নর্দমার আবর্জনা পরিষ্কার করতে জেট সাকশন পাম্প কাজে লাগানো হবে। উল্লেখ্য, রথযাত্রা উপলক্ষ্যে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহের তিনটি পৃথক রথ মূল মন্দিরের ৭ নম্বর গেট থেকে যাবে মাসির বাড়ি (পুরনো জগন্নাথ মন্দির) পর্যন্ত। সেখানে মন্দিরের সামনে চাতালে তিনটি রথ থাকবে। ইতিমধ্যে রথগুলি তৈরি হয়ে গিয়েছে। মাসির বাড়ি প্রাঙ্গণে রথের দিন থেকে উল্টোরথ পর্যন্ত মেলা বসবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ভক্তদের বসিয়ে প্রসাদও খাওয়ানো হবে। দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের রথযাত্রায় উপস্থিত থাকবেন বলে আগেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে ১২ জুন হবে স্নানযাত্রা। তারও প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে বলে জানান মন্দির পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইসকনের কলকাতা শাখার সহ সভাপতি রাধারমণ দাস। তিনি বলেন, রথযাত্রার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে ১০ জুন বৈঠক রয়েছে। অন্যদিকে, রথযাত্রা উপলক্ষ্যে দীঘা বহু মানুষের সমাগম হবে বলে ধারণা পুলিস-প্রশাসনের আধিকারিকদের। তাই যানজট এড়াতে আগামী ২৬ জুন থেকে দীঘায় টোটো ও অটো চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। দীঘায় ওড়িশা বর্ডারে এবং প্রবেশপথে অস্থায়ী পার্কিং জোন তৈরি করা হবে।