


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম সার্ধশতবর্ষ আসন্ন। হুগলির ব্যান্ডেলের দেবানন্দপুরে ছিল কথাশিল্পীর জন্মভিটে। সেখানে ইতিমধ্যেই একটি মিউজিয়াম তৈরির প্রকল্প অনুমোদন করেছে রাজ্য সরকার। এবার জন্ম সার্ধশতবর্ষকে সামনে রেখে ব্যান্ডেলে মেগা অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছে হুগলি জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার হুগলি জেলা পরিষদে এ নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়েছে, দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠান করা হবে। বাংলা বছরের হিসেব ধরে আগামী ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর ওই মেগা অনুষ্ঠান করা হবে। দেবানন্দপুরে কথাশিল্পীর স্মৃতি বিজড়িত সমস্ত এলাকা ও স্মারকচিহ্ন সাজিয়ে তোলা হবে। দু’দিন ব্যাপী আলোচনা সভা, সাহিত্যবাসর, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ নানা কর্মসূচিকে একত্রিত করে একটি সূচি তৈরি করা হচ্ছে।
কথাশিল্পীর জন্ম সার্ধশতবর্ষকে সামনে রেখে তাঁর স্মৃতি বিজড়িত মিউজিয়াম তৈরির কাজে নামতে চাইছে জেলা প্রশাসন। উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারের ঘোষিত প্রকল্পটি জমিজটের কারণে আটকে পড়েছিল। সম্প্রতি সেই জট কেটেছে। জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের হাতে মিউজিয়ামের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ইতিমধ্যেই তুলে দেওয়া হয়েছে। সেই কাজের পরিকল্পনায় শেষ তুলির টান দেওয়ার কাজ চলছে। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হুগলি জেলা পরিষদের মেন্টর সুবীর মুখোপাধ্যায়, সভাধিপতি রঞ্জন ধাড়া, স্থানীয় বিধায়ক অসিত মজুমদার সহ প্রশাসনের কর্তারা। সুবীরবাবু বলেন, প্রতি বছরই কথাশিল্পীর জন্মদিন আড়ম্বরের সঙ্গে পালিত হয়। এবার আমাদের কাছে একটি বিশেষ সুযোগ এসেছে। কথাশিল্পীর জন্মের সার্ধশতবর্ষ আসন্ন। সেকারণে একটি মেগা ইভেন্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার এনিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। হাতে সময় কম। ১৭-১৮ সেপ্টেম্বর দু’দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান হবে। সমস্ত মহলের পরামর্শ নিয়ে একটি মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান আমরা করব। পাশাপাশি, মিউজিয়াম তৈরির কাজটিও এবার শুরু করে দিতে চাই। এ বিষয়ে তৎপর হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অসিতবাবু বলেন, আমি ভাগ্যবান যে দেবানন্দপুর আমার বিধানসভা এলাকার মধ্যে পড়ে। স্থানীয় পঞ্চায়েতের সঙ্গে কথা হয়েছে। সমস্ত স্মারক চিহ্নগুলিকে মনোরম করে সাজিয়ে তোলা, আলোকসজ্জা সহ নানা আয়োজন আমরা করব।
উদ্যোক্তাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, পুজোর প্রাক্কালে ওই অনুষ্ঠানকে জাঁকজমকপূর্ণ করতে সাধারণ নাগরিক ও সংস্কৃতি মনস্ক ব্যক্তিদের কাছে পরামর্শ চাওয়া হচ্ছে। আগামী সাতদিনের মধ্যে সমস্ত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে কাজে নেমে পড়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে এদিনের বৈঠকে। -নিজস্ব চিত্র