


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন স্কুলের শিক্ষকরা নিয়ম ভেঙে চুটিয়ে প্রাইভেট টিউশন করছেন। এই অভিযোগে প্রাইভেট টিউটর সংগঠনের করা একটি মামলায় শিক্ষাদপ্তর এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদের কাছে হলফনামা চেয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ জানতে চেয়েছে, এমন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? রিপোর্ট আকারে পরবর্তী শুনানিতে জমা দিতে বলেছে হাইকোর্ট। সূত্রের খবর, এর পরেই রিপোর্ট তৈরিতে উঠেপড়ে লেগেছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।
এ বিষয়ে অবশ্য পর্ষদের কেউ সরকারিভাবে কিছু বলতে চাননি। তবে, এক আধিকারিক বলেন, একাধিক সংগঠন এসে প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছে। কখনো দেখা যাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বাড়ির বাইরে অসংখ্য চটিজুতো। এগুলি দিয়ে সরাসরি কিছু প্রমাণ করা যায় না। আবার একাধিক সংগঠন পরস্পরবিরোধী তথ্যও দিচ্ছে। খোঁজ নিয়ে দেখা যাচ্ছে, স্কুলের সময়ে প্রাইভেট টিউশন নিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক কোনো অভিযোগ স্বীকার করছেন না। সরেজমিনে তদন্ত করার সুযোগ পর্ষদের কাছে নেই। যে কজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে জোরালো প্রমাণ মিলেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যদিও, পর্ষদের যুক্তি মানতে নারাজ মামলাকারী সংগঠন প্রাইভেট টিউটর্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আইনি প্রধান অভিজিৎ প্রামাণিক। তিনি বলেন, ‘পর্ষদের কথা আসলে কিছু ডিআই শুনতে চাইছেন না। এখানে কোনো অসৎ লেনদেন থাকাও আশ্চর্যের নয়। যদি পর্ষদ বা ডিআইরা তদন্ত করে শাস্তি না দিতে পারেন, তাহলে পুলিশকে দায়িত্ব দিক। আয়কর ফাঁকি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা রোজগার তো ফৌজদারি অপরাধও বটে।’ তথ্যপ্রমাণ জোরালো না-থাকার দাবিও তিনি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমরা ছাত্রছাত্রীদের এফিডেভিট জমা দিয়েছি। তারা কতটাকা ফি দিয়ে পড়াশোনা করে, সেসব জানিয়েছে। সেখানে শিক্ষকের সই করা রশিদও রয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরে এক বিডিও শিক্ষকের বাড়িতে ঢুকে প্রাইভেট টিউশনের ভিডিয়ো করে পর্ষদে পাঠিয়েছেন। তা সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ হয়নি।’
ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রাইভেট টিউটর্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র সুজিত রায় বলেন, ‘কখনো কখনো নামের তালিকা প্রকাশ হয়। শোকজও করা হয়। তবে, কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।’ প্রাইভেট টিউটররা বলছেন, স্কুলের পাশে ঘর নিয়ে দুটি ক্লাস ফাঁকি দিয়ে টিউশন করেন স্কুলশিক্ষকরা। এই অসম লড়াইয়ে তাঁদের রুটিরুজি সংকটে। এর ফলে স্কুলগুলিতে পড়াশোনা এবং পড়ুয়াদের হাজিরাও লাটে উঠছে। আর বেশি টাকা দিয়ে টিউশন নিতে না পেরে গরিব ছাত্ররা খারাপ ফল করে স্কুলছুটও হচ্ছে। অনেকে স্কুলের পরীক্ষা এবং বোর্ড পরীক্ষার প্র্যাকটিক্যালে খারাপ ফল করার আশঙ্কায় স্কুলের শিক্ষকদের কাছে পড়তে বাধ্য হচ্ছে। কারণ প্র্যাকটিক্যালের নম্বর স্কুলশিক্ষকদের হাতেই।