


সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: উন্নয়ন, অনুন্নয়ন ও দাবি-দাওয়ার। জটিল সিঁড়িভাঙা অঙ্ক মেলাতে পেন কামড়ে চলেছেন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিদায়ী বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়। এই সমীকরণকে সামনে রেখে এখানে জমে উঠেছে নির্বাচনি লড়াই। বিজেপি প্রার্থী গত পাঁচ বছরে প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ, গোটা এলাকাকে আলো থেকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছেন। এমন অভিযোগ তুলে ভোটের ময়দানে সরব বিরোধীরা।
২০১১ সালে নতুন বিধানসভা কেন্দ্র হওয়ার পর থেকে এই পঞ্চায়েত এলাকা উন্নয়নের জোয়ারে দ্রুত শহুরে রূপ নিতে শুরু করেছিল। তৎকালীন বিধায়ক তথা মন্ত্রী গৌতম দেবের আমলে রাস্তা, পানীয় জল ও নাগরিক পরিষেবার উন্নয়নে গতি এসেছিল। এলাকার ভোটাররাই বলছেন একথা। কিন্তু গত পাঁচ বছরে সেই উন্নয়নের ধারায় ভাটা পড়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর একটি বড় অংশের।
ফুলবাড়ির সীমান্ত থেকে শালুগাড়া পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যাচ্ছে, পানীয় জল, রাস্তা ও নিকাশি ব্যবস্থার সমস্যায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ বাড়ছে। ফকদইবাড়ির সীমা রায়, হাতিয়াডাঙার গোলাপি দাস, ডাবগ্রামের শ্যামল পাল সকলের কথায়, গত নির্বাচনের সময় শিখাদেবী যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার একটাও বাস্তবায়িত হয়নি।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায় তৃণমূলের প্রার্থী গৌতম দেবকে পরাজিত করে চমক দেন। তবে এলাকাবাসীর একাংশের মতে, গালভরা প্রতিশ্রুতি ও স্বপ্ন দেখিয়েই ভোটে জয়ী হয়েছিল বিজেপি। জেতার পর সব ভুলে যান শিখাদেবী।
এই পরিস্থিতিতে এবারের তৃণমূল প্রার্থী রঞ্জন শীলশর্মা গত পাঁচ বছরে এলাকার অনুন্নয়ন এবং তা নিয়ে মানুষে মনে জমে থাকা ক্ষোভকে হাতিয়ার করে জোরদার প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রচারে মানুষের সঙ্গে কথা বলে বুঝেছি, বাসিন্দারা পুরসভা চাইছেন। চাইছেন উন্নত পরিষেবা, পরিককাঠামো উন্নয়ন। মানুষের এই দাবিকে আমরা মর্যাদা দেব।
ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত ও শিলিগুড়ি পুরসভার জলপাইগুড়ি জেলার সংযোজিত ১৪ ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইস্টার্ন বাইপাসের একদিকে শহুরে পরিষেবা পৌঁছেছে, অন্যদিকে পঞ্চায়েত এলাকায় এখনও পানীয় জল, রাস্তা ও নিকাশির সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বর্ষাকালে পূর্ব ও পশ্চিম ধনতলা থেকে শুরু করে বিস্তীর্ণ এলাকা জল জমে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
গত অক্টোবর মাসে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময়ও বিজেপির জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। গত বর্ষায় লালটং, চমকডাঙি তিস্তার গ্রাসে তলিয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় রাজ্য সরকারের উদ্যোগে পুনর্বাসন হলেও এলাকার বিজেপি বিধায়ক ও সাংসদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বহু বাসিন্দা।
যদিও শিখা চট্টোপাধ্যায় সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। পালটা তিনি বলেন, কাজ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাদের বিধায়ক তহবিলে বছরে সামান্য বরাদ্দ থাকে। যা দিয়ে একটা রাস্তা করাও সম্ভব নয়। তবু সামান্য টাকায় ছোট ছোট কাজ করতে গেলে তার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি রাজনৈতিক বাধার কারণে।
নির্বাচনের আগে তাই প্রশ্ন, প্রতিশ্রুতি নাকি বাস্তব উন্নয়ন। কোনটা বেছে নেবেন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির ভোটাররা?