


নয়াদিল্লি, ১৪ অক্টোবর: পুলিশের ব্যারিকেড টপকে প্রবেশ এবং বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগ দিল্লির যন্তর মন্তরে। আর সেই জেরে ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে পাঁচ দিনের জেল হেফাজতে পাঠাল আদালত। পাশাপাশি এই ঘটনায় দলের আর এক নেতা অজিঙ্ক সিন্ধেকেও আটক করা হয়েছে। তিনজনের বিরুদ্ধেই একাধিক অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে দিল্লি পুলিশের তরফে।
জানা গিয়েছে, আজ বুধবার সকাল প্রায় ৮টা নাগাদ তিন নেতাকে দিল্লির মন্দির মার্গ এলাকার এক ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করা হয়। অভিযোগ, গত মঙ্গলবার সকালে পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেন তাঁরা। সেখানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগানও দেন। দিল্লি পুলিশের দাবি, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা আগেও ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ নম্বর ধারার বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করেছেন। আগের একটি বিক্ষোভের পর ৫০ হাজার টাকার বন্ডে মুক্তি পেয়েছিলেন তাঁরা। পাশাপাশি এক বছরের জন্য শান্তিভঙ্গের কোনো ঘটনায় জড়িত না থাকার মুচলেকাও দিয়েছিলেন। পুলিশের অভিযোগ, এবার সেই বন্ডের শর্ত ভঙ্গ করেন তাঁরা। আর ঠিক এই কারণেই তাঁদের পুনরাবৃত্তি ঘটানো অভিযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
অপরদিকে সিজেপির আইনি দলের প্রধান রত্না সিং সমাজ মাধ্যমে একটি পোস্ট করে জানান, যন্তর মন্তরের ঘটনার পর সৌরভ দাস, আশুতোষ রানকা এবং অজিঙ্ক সিন্ধেকে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, বন্ডের শর্ত লঙ্ঘন এবং সরকারি কর্মীর কাজে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানান তিনি। রত্না সিংয়ের আরও জানান, গভীর রাত পর্যন্ত ওই তিন নেতাকে তাঁদের আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, রাত ৩টে নাগাদ একটি ব্যক্তিগত ভ্যানে করে তাঁদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে আসা হয়। পুলিশের এই পদক্ষেপকে বেআইনি বলে দাবি করেন সে।
উল্লেখ্য, এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে দিল্লিতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে সিজেপি সহ একাধিক সংগঠন। আর সেই জেরেই উত্তপ্ত দিল্লি। আর এই পরিস্থিতিতে রাজধানীতে নিরাপত্তা আরো জোরদার করেছে দিল্লি পুলিশ।
গত ১১ অক্টোবর দিল্লির পুলিশ কমিশনার একটি নির্দেশ জারি করে রামলীলা ময়দান, বুরাড়ি গ্রাউন্ড এবং সিবিডি গ্রাউন্ডকে বিক্ষোভ ও সমাবেশের নির্দিষ্ট স্থান হিসেবে ঘোষণা করেন। সেইসঙ্গে অনুমোদিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে যন্তর মন্তরের নাম বাদ দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে সিজেপি। দলের দাবি রাজধানীর কেন্দ্রস্থল থেকে বিক্ষোভ সরিয়ে দিলে সাধারণ মানুষের কাছে আন্দোলনের বার্তা পৌঁছনোর সুযোগ এবং তার প্রভাব কমে যাবে।