


সংবাদদাতা, ঘাটাল: মন্দিরে ঢুকে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার অভিযোগ উঠল এক ঘাটালের এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে। ক্ষীরপাইয়ের বিখ্যাত বড়মা মন্দিরে শিবের বুকে পা দিয়ে ‘কালী’ সাজে রিলস বানিয়ে এখন পুলিশি তদন্তের মুখে ওই গৃহবধূ। জানা গিয়েছে শম্পা মল্লিক নামে একজনের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ওই ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়েছে। বুধবার রাতে ওই ভিডিয়োটি সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই মহকুমাজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। চারদিকে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ক্ষীরপাই শহরে দফায় দফায় বিক্ষোভ হয়। অবিলম্বে ওই গৃহবধূকে গ্রেপ্তার করার দাবি তুলেছেন শহরের বাসিন্দারা। এনিয়ে ক্ষীরপাই ফাঁড়িতে একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। ঘাটাল মহকুমা পুলিশ আধিকারিক নীলেশ শ্রীকান্ত গাইকোয়াড বলেন, ভিডিয়োটি দেখেছি। এনিয়ে একটি অভিযোগ হয়েছে। তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, গৃহবধূর প্রকৃত নাম ও ঠিকানা জানার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বর্তমান যুগে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের জন্য রিলস তৈরির নেশা সমাজকে কোন অতলে নিয়ে যাচ্ছে, তার এক কদর্য নিদর্শন প্রত্যক্ষ করল ঘাটাল মহকুমা। ক্ষীরপাইয়ের কেঠিয়া খালের পাড় সংলগ্ন এলাকায় বড়মা মন্দিরের ৩৫ ফুট উচ্চতার কালী মূর্তির খ্যাতি এখন রাজ্য ছাড়িয়ে ভিনরাজ্যেও। শ্মশানকালী হিসেবে পূজিত এই মন্দিরের কালীমা। এখানকার বিশেষত্ব হল, ভক্তরা নিজেরাই নিজেদের পুজো দিতে পারেন। কোনও পুরোহিত বা দক্ষিণার বালাই নেই। মন্দিরে কোনও প্রণামী বাক্সও নেই। সর্বসাধারণের জন্য অবারিত দ্বার হওয়ার সুযোগেই বুধবার ওই মন্দিরে প্রবেশ করেন বছর পঁচিশের ওই গৃহবধূ। অভিযোগ, তিনি মূর্তির হাত থেকে দু’টি খাঁড়া খুলে নিয়ে বিশালাকার বিগ্রহের চারপাশ ঘুরে শিবের বুকের ওপর পা দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন। আর সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করে রিলস হিসেবে আপলোড করেন।
ওই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, সস্তার জনপ্রিয়তার জন্য মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট করা হয়েছে। নিয়মিত যাতায়াত করেন এমন ভক্তদের দাবি, রিলসের দাপটে বর্তমানে মন্দিরে শান্তিপূর্ণভাবে পুজো দেওয়া দায় হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয় যে, এই ঘটনার পর এদিন সকালে তড়িঘড়ি মন্দিরটি নতুন করে প্রতিষ্ঠা ও শুদ্ধিকরণ করা হয়েছে। দোষী মহিলার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ক্ষীরপাই ফাঁড়িতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।