


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: নেই থিমের চমক। নেই আতিশয্য। পুরোনো রীতি মেনেই পুজোর আদি গৌরব বজায় রেখেছে বালির দুই মন্দির। দু’টি পুজোরই বয়স ৭০ বছরের বেশি। পুজোর চারদিন বেলুড়মঠের পাশাপাশি ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে এখানেও। বালি দেওয়ানগাজির কল্যাণেশ্বর নাটমন্দির দুর্গাপুজো কমিটির এবার ৭৫তম পুজো। শোনা যায়, একসময় এখানে গভীর জঙ্গল ছিল। তার মধ্যেই ছিল কল্যাণেশ্বর শিবমন্দির। কাশী বিশ্বনাথের মতো এই মন্দিরও গঙ্গার পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত। এই মন্দিরে এসেই ভাব সমাধি হয়েছিল রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের। মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত শিবকে ‘জ্যান্ত শিব’ বলে অভিহিত করেছিলেন তিনি। মন্দিরের পা রেখেছেন স্বামী বিবেকানন্দও। স্বামীজি নিজের হাতে এই মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন পঞ্চমুণ্ডির আসন। তখন থেকেই বেলুড়মঠের সঙ্গে কল্যাণেশ্বর নাটমন্দিরের সম্পর্ক। আজও রীতি মেনে বেলুড়মঠের মহারাজরা এখানে এসে পুজো করেন। এই পুজোয় দেবী দুর্গা একচালায় ডাকের সাজে সজ্জিতা। উচ্চতা ১৫ ফুট। পুজোর যাবতীয় খরচ বহন করেন তিন ঘোষাল ও এক রায়চৌধুরী পরিবার।৭৬ বছরে পদার্পণ করল বালি ধর্মরাজ জিউ নাটমন্দিরের দুর্গাপুজো। এই পুজো বালি-বেলুড় সীমান্তপল্লি সর্বজনীন দুর্গোৎসব হিসেবেই পরিচিত। বালির ঐতিহ্যবাহী পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম এটি। পুজোর দায়িত্বভার রয়েছে নির্দিষ্ট কমিটির হাতে। পুজো কমিটির তরফে দেবজিৎ কুমার ও সুপ্রভাত মাঝি বলেন, ‘এখানে থিমের ছোঁয়া নেই। রয়েছে ভক্তির অপার নির্যাস। পুজোর চারদিন প্রচুর মানুষ ভিড় করেন এখানে।’