


কাতার, ২২ জুন: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত। বিশ্বজুড়ে জ্বালানী সংকট। এই সবকিছুর মধ্যেই ফের উদ্বেগ বাড়ল পশ্চিম এশিয়ায়। রবিবার রাতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কাঁপল কাতার। রবিবার কাতারের উত্তর-পূর্বে রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে একটি প্রাকৃতিক গ্যাস প্ল্যান্টে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় ৫৪ জন গুরুতর জখম ও প্রায় ১৮ জন নিখোঁজ। সূত্রের খবর বিস্ফোরণ এতটাই মারাত্মক ছিল যে সঙ্গে সঙ্গেই আগুন ধরে যায়। প্ল্যান্টের একাংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে দমকলকর্মীরা ও উদ্ধারকারী দল পৌঁছে উদ্ধারকার্য শুরু করেছে।
কাতারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক গ্যাস কেন্দ্র এই রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি। প্রায় এক মাস আগে ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার আবহে এই গ্যাস হাব লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই বন্ধ ছিল রাস লাফান। পশ্চম এশিয়ার সংঘর্ষ কিছুটা নিম্নগামী হলে ধীরে ধীরে কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। খুব তাড়াতাড়ি গ্যাস রপ্তানি শুরু হওয়ারও কথা ছিল। ঠিক সেই সময়েই এই নতুন বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা বাড়াল। রাস লাফান শুধু কাতারের জন্য নয়, বিশ্ব জ্বালানি বাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলএনজি কেন্দ্র। এখান থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হয়। ফলে এই বিস্ফোরণের পর উৎপাদন বা আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই বিস্ফোরণের প্রভাব শুধু কাতারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় কাতারের সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বাড়তে পারে এবং সরবরাহ সংকটও তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে গ্যাস আমদানির উপর নির্ভরশীল দেশগুলো অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়তে পারে। আগের হামলার সময় কাতারের এলএনজি সরবরাহ প্রায় ১৭ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণের সময় কেন্দ্রটিতে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি চলছিল। তবে কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।