


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাজারো গাছের সমাহার! স্কুলপড়ুয়া থেকে উদ্ভিদবিদ্যার গবেষক—প্রকৃতি ও পরিবেশ সম্পর্কে আগ্রহ এবং গাছপালা নিয়ে অপার কৌতূহল মেটানোর এক আদর্শ জায়গা শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন। সেখানে গিয়ে এতদিন গাছ চেনার একমাত্র উপায় ছিল কর্তৃপক্ষের তরফে গাছের সামনে রাখা ছোট বোর্ড। সেখানে গাছের নাম, বিজ্ঞানসম্মত নাম সহ সামান্য কয়েকটি তথ্য থাকত। এবার থেকে গাছের সামনে রাখা কিউআর কোড স্ক্যান করে যে কেউ জেনে নিতে পারবেন সংশ্লিষ্ট উদ্ভিদ সম্পর্কে এক গুচ্ছ তথ্য। নাম, বিজ্ঞানসম্মত নামের পাশাপাশি ওই উদ্ভিদের কোনও ঔষধি গুণ আছে কি না, অন্য কোনও বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকলে তাও জানা যাবে। ইতিমধ্যে শিবপুরের আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু ইন্ডিয়ান বোটানিক্যাল গার্ডেনের প্রায় এক হাজার গাছে কিউ আর কোড লাগানো হয়ে গিয়েছে। এই কাজ চলছে।
জাতীয় এই উদ্যানে নানারকম বিরল উদ্ভিদ সহ প্রায় ১২ হাজার প্রজাতির গাছ রয়েছে। কমবেশি প্রতিদিনই এখানে ভিড় জমে আগ্রহীদের। তার একটা বড় অংশ স্কুল-কলেজের পড়ুয়া ও উদ্ভিদবিদ্যার ছাত্র-গবেষক। তাঁরা এতদিন বহু দুর্লভ প্রজাতির গাছ খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়তেন। গাছ চিনতে সমস্যা হতো সাধারণ দর্শনার্থীদেরও। কিউআর কোডের ব্যবস্থায় তাঁদের অনেকটা সুবিধা হবে বলে আশা কর্তৃপক্ষের। গাছের সামনে গিয়ে মোবাইলে কোড স্ক্যান করলেই মিলবে যাবতীয় তথ্য। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে প্রায় ৫ হাজার গাছের নামের লেভেলিং সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার গাছের সামনে বসানো হয়েছে কিউআর কোড। বোটানিক্যাল গার্ডেনের জয়েন্ট ডিরেক্টর দেবেন্দ্র সিং বলেন, ‘মাত্র ৬ ইঞ্চি বোর্ডে লাগানো লেভেলিংয়ে খুব সামান্য তথ্যই দেওয়া সম্ভব হতো। এখন থেকে কিউআর কোড স্ক্যান করলে বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি তিন ভাষাতেই গাছ সম্পর্কে সমস্ত তথ্য পাওয়া যাবে। পর্যটকদের পাশাপাশি পড়ুয়া ও গবেষকদের কথা মাথায় রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ সম্প্রতি বোটানিক্যাল গার্ডেনে এসেছিলেন বোটানি বিভাগের এক ছাত্রী দীপ্তিশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বললেন, ‘কিউআর কোড থাকায় খুব সুবিধে হচ্ছে। এটা না থাকলে বহু গাছ চেনার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হতো।’ বোটানিক্যাল গার্ডেনের বিখ্যাত বটগাছ ছাড়াও বৃহৎ জলপদ্ম, জোড়া নারকেল, সেসেজ, কল্পবৃক্ষ, সাদা ও লাল চন্দন, ঘোরাবচ, ভদ্রক, লেমন গ্রাসের মত বহু উদ্ভিদের সামনে বসানো হয়েছে কিউআর কোড। উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এখানকার ডেইলি ওয়াকার্স অ্যাসোসিয়েশন। তাদের সম্পাদক তাপস দাস বলেন, ‘পড়ুয়াদের জন্য খুবই ভালো পদক্ষেপ এটি। কিন্তু অনেকেই স্মার্টফোন ব্যবহার করে না বা ততটা সরগড় নয়। তাদের কথা মাথায় রেখে লেভেলিংয়ের বোর্ডে আরও কিছু তথ্য দিলে ভালো হয়।’