


সংবাদদাতা, হিলি: বিতর্ক ও দ্বন্দ্বের মধ্যেই অবশেষে উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বালুরঘাটের ঐতিহ্যবাহী রঘুনাথ পুজো শুরু হল। টানাপোড়েন সত্ত্বেও রামনবমী উপলক্ষ্যে এবছর শান্তিপূর্ণভাবে পুজো আয়োজন সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পুরনো বিগ্রহেই রাম, সীতা, লক্ষ্মণ ও হনুমানের পুজো শুরু হয়েছে। পুজো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের তরফ থেকে মন্দির প্রাঙ্গণে প্রচুর পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে মন্দিরে প্রতিমা পৌঁছে গিয়েছে এবং নির্দিষ্ট তিথি মেনে বৃহস্পতিবার থেকেই পুজো শুরু হয়েছে। রামনবমী উপলক্ষ্যে শুক্রবার ভোর থেকে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে মন্দির চত্বরে। তাই মন্দির চত্বর ও আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তাল জানান, পুজোয় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে সমস্ত অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসন তৎপর।
দ্বন্দ্ব পুরোপুরি না মিটলেও স্থানীয় বাসিন্দা ও মেলা কমিটির সদস্যরা যৌথ অংশগ্রহণে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পুজোর আয়োজনে উদ্যোগী হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রতিমা এনে নিয়ম মেনে প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং তিথি অনুযায়ী নবমীর পুজো শুরু হয়।
দীর্ঘদিন একটি নির্দিষ্ট কমিটি মন্দিরের পুজো ও মেলার দায়িত্ব সামলালেও তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তাঁদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং মেলার আয়-ব্যয়ের হিসেব নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। যদিও মেলা কমিটি এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এই পরিস্থিতিতে ‘রঘুনাথ মন্দির রক্ষা কমিটি’ নামে একটি নতুন গোষ্ঠী আন্দোলনে নামে এবং নিজেরাই পুজো পরিচালনার দাবি তোলে। অন্যদিকে, পুরনো কমিটি সেই দাবি মানতে নারাজ। পুজো কমিটির সম্পাদক ভোলা সিং জানান, পুজো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে তাঁরা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন। তাঁরা শুধুমাত্র পুজোতে অংশগ্রহণ করছেন এবং মন্দিরে পুণ্যার্থী ও ভক্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার বাইরে কোনো কাজ করছেন না। মূর্তি চুরি সংক্রান্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। বিক্ষুব্ধদের পক্ষে টগরি মহন্ত বলেন, প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করতে বলেছেন। আমরা সেভাবে কাজ করছি। মন্দির কমিটির বিরুদ্ধে প্রতিবছর অভিযোগ থাকে। সে কারণে আমরা পুজো করছি। মূর্তি হারিয়ে গিয়েছিল। আমরা সে মূর্তি এনে প্রতিষ্ঠা করেছি।