


সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: নতুন ট্রেন চালু, রেল পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ, যাত্রী পরিষেবার উন্নতি, স্টেশনগুলির সৌন্দর্যায়ন এবং পরিবেশ রক্ষার মতো একাধিক দাবিতে সরব হল কৃষ্ণনগর-কালীনারায়ণপুর রেলওয়ে প্যাসেঞ্জারস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। রবিবার কৃষ্ণনগরে সংগঠনের পক্ষ থেকে রেল পরিষেবার বিভিন্ন সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হয়। সাধারণ যাত্রীদের দৈনন্দিন সমস্যার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাত্রী সংখ্যা ও পরিষেবার চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম প্রধান দাবি, কৃষ্ণনগর-শিয়ালদহ রুট সহ আরও একাধিক রুটে নতুন ট্রেন চালু করা। বিশেষ করে সকালের ব্যস্ত সময়ে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভিড়ের কথা মাথায় রেখে এসি লোকাল-সহ একাধিক নতুন ট্রেন চালুর দাবি জানানো হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রতিদিন কৃষ্ণনগর, বাদকুল্লা, তাহেরপুর, বীরনগর, কালিনারায়নপুর সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মানুষ কর্মসূত্রে কলকাতা সহ বিভিন্ন দিকে যাতায়াত করেন। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেনে ব্যাপক ভিড় হয়। নতুন ট্রেন চালু হলে যাত্রীদের চাপ কমার পাশাপাশি যাতায়াত আরও স্বাচ্ছন্দ্য হবে। এর পাশাপাশি কৃষ্ণনগর-করিমপুর নতুন রেললাইন তৈরি, প্ল্যাটফর্ম ও ফুটওভার ব্রিজ-সহ রেলের পরিকাঠামো আধুনিক করার দাবি তোলেন তারা ।
এছাড়াও বয়স্ক, অসুস্থ এবং বিশেষ ভাবে সক্ষম যাত্রীদের সুবিধার জন্য র্যাম্প সহ ফুটওভার ব্রিজ, স্টেশনগুলিতে পর্যাপ্ত পরিশ্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা, স্পষ্ট দিকনির্দেশিকার পাশাপাশি কৃষ্ণনগর সহ বাকি স্টেশনগুলোর শহরের ইতিহাস, ঐতিহ্য গুলোকে তুলে ধরতে হবে। অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্রীতম ভৌমিক বলেন, শিয়ালদহ থেকে কৃষ্ণনগর লাস্ট ট্রেন রাত ১০টা ৮ মিনিটে যেটি ছেড়ে আসে, সেই ট্রেনটি অ্যাপে দেখায় না। অনেকেই সেজন্য জানতেই পারেননা। ট্রেনটি ৬ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে চলবে। আমরা চাই সেটি স্থায়ীভাবে চলুক। আমরা এর জন্য গণ স্বাক্ষর করেছি। রেল পরিষেবা শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এর সঙ্গে মানুষের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, ব্যবসা ও এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন জড়িয়ে রয়েছে।তাই যাত্রীদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধান এবং রেল পরিষেবাকে আরও আধুনিক করার দাবি জানাই। অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সঞ্জিত দত্ত বলেন, রেলের লাইনের কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় গাছ কাটা পড়ে, তাই রেলের পতিত জমিতে গাছ লাগাতে হবে। নদীর উপর সেতু করতে গিয়ে নির্মাণ সামগ্রী নদীতে পড়ছে সেগুলো দ্রুত তুলে ফেলতে হবে। বাদকুল্লা, তাহেরপুর ইত্যাদি এলাকা থেকে যখন রোগী নিয়ে শক্তিনগর হাসপাতালে আসতে হয়, তখন কৃষ্ণনগর শহরে ঢুকতে তিনটে রেলগেট পার হতে হয়, যানজটে পড়তে হয়। ঝিটকিপোতা রেল গেট থেকে বারুইহুদা রেলগেট পর্যন্ত রাজ্যে সড়ক করার জন্য আমরা কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ককে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি। কৃষ্ণনগর-রানাঘাট তৃতীয় লাইন যেখান দিয়ে হবে, তার পূর্বদিকে। এটি করা গেলে বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন।