


ভোপাল: মাত্র ১০ টাকার কোপে চাকরি খুইয়েছিলেন! গত ২১ বছর ধরে মিথ্যাবাদীর তকমা গায়ে সেঁটে দিন কাটিয়েছেন নারায়ণ নায়ার। অবশেষে প্রতারণা মামলা থেকে তাঁকে সম্পূর্ণ মুক্তি দিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। উচ্চ আদালতের তরফে এও জানানো হয়েছে, পদ্ধতিগত ভুলের কারণেই ফেঁসে গিয়েছিলেন নারায়ণ। তিনি কোনো অপরাধ করেননি।
ঘটনাটি ২০০২ সালের ৪ জানুয়ারির। মধ্যপ্রদেশের শ্রীধাম রেলস্টেশনের টিকিট কাউন্টারে বসে টিকিট দিচ্ছিলেন রেলকর্মী নারায়ণ। সামনে বিপুল ভিড়। সেই লাইনেই যাত্রী সেজে দাঁড়িয়েছিলেন এক ভিজিলেন্স অফিসার। নারায়ণ টিকিটের সঙ্গে টাকা ফেরত দিতেই সেই অফিসার বলে ওঠেন যে, ৩১ টাকা ফেরত দেওয়ার জায়গায় ২১ টাকা দেওয়া হয়েছে। এটা এক ধরনের জালিয়াতি। আসলে সাদা পোশাকে ভিজিলেন্স অফিসাররা সেই সময় রেল স্টেশনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযান চালাচ্ছিলেন। মাত্র ১০ টাকা প্রতারণার দায়ে গ্রেপ্তার করা হয় নারায়ণকে। তিনি অবশ্য বারবার বলেন যে, ভিড়ের কারণে হয়তো কোনো ভুল হয়েছে। তবে ভিজিলেন্স অফিসাররা কোনো কথাই শোনেননি। উলটে তাঁরা দাবি করেন, নারায়ণের কাছ থেকে ৪৫০ টাকা পাওয়া গিয়েছে। যদিও সেখানেও উনি জানিয়ে দেন, এটি তাঁর নিজস্ব টাকা। অসুস্থ স্ত্রীর ওষুধ কেনার জন্য তিনি বের করে রেখেছিলেন। সেকথাও কেউ শোনেনি। ভিজিলেন্স অফিসাররা অভিযোগ তোলেন যে, মাটিতে তাঁরা অন্তত ৭৭৮টি টিকিট পড়ে থাকতে দেখেছেন। সব মিলিয়ে একাধিক অভিযোগে চাকরি যায় নারায়ণের।
অবশেষে ২০২৬ সালে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে নিষ্পত্তি হল ২১ বছরের পুরানো সেই মামলার। নানা টালবাহানার পর আদালত জানিয়ে দিল, টিকিট কাউন্টারে কর্মরত নারায়ণ যে ১০ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন, সেব্যাপারে ছদ্মবেশী ভিজিলেন্স অফিসার ছাড়া অন্য কারও সাক্ষী নেই। এমনকি, যে ৭৭৮টি টিকিট সেই সময় মাটিতে পড়ে থাকার কথা বলা হয়েছিল, তা আদতে ছিল মাত্র সাতটি। কাজেই নারায়ণের চাকরি হারানো পুরোপুরি পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণেই। এমনকি উচ্চ আদালত এটাও জানিয়েছে, চাকরি চলে যাওয়ার মতো যে ঘটনা নারায়ণের সঙ্গে ঘটেছে, তা লঘু পাপে গুরুদণ্ড। যদিও এত বছরের বেতনের টাকা তিনি এবার ফিরে পাবেন কি না, সেব্যাপারে কিছু জানা যায়নি। যদিও নারায়ণ সেসব নিয়ে ভাবছেন না। হাসিমুখে তিনি বলেন, দেরিতে হলেও অবশেষে জয় মিলল।