


দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: দুর্ঘটনারোধী ‘কবচ’ প্রযুক্তি কবে সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হবে, তার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা রেলের কাছে নেই। অত্যাধুনিক ‘কবচ’ প্রযুক্তি নিয়ে তাই কংগ্রেস সাংসদ কে সি বেণুগোপালের নেতৃত্বাধীন পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির তীব্র তোপের মুখে পড়তে হল রেলমন্ত্রককে। বিভিন্ন সময় ‘কবচ’ প্রযুক্তি রূপায়ন নিয়ে গালভরা একাধিক ঘোষণা করেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। সংসদে পেশ করা পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির রিপোর্টের পর জল্পনা ছড়িয়েছে, রেলমন্ত্রীর এ সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘোষণা নিছকই কথার কথা কি না। তবে শুধুমাত্র দুর্ঘটনারোধী ‘কবচ’ প্রযুক্তি নয়, ট্রেনের কোচে নিয়মিত ফায়ার সেফটি অডিটের ব্যাপারেও রেলকে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটি। এর ফলে সবমিলিয়ে রেলের যাত্রী সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।
সংসদে পেশ করা রিপোর্টে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি জানিয়েছে, রেলের প্রত্যেক ডিভিশন এবং রুটে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ‘কবচ’ প্রযুক্তি কার্যকরের ব্যাপারে সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু অ্যাকশন টেকেন নোটে এসংক্রান্ত বিষয়ে কোনো সময়সীমার উল্লেখ পর্যন্ত করেনি রেলমন্ত্রক। কমিটি রিপোর্টে উল্লেখ করেছে, এসংক্রান্ত বিষয়ে রেলমন্ত্রকের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। অ্যাকশন টেকেন নোটে ঠিক কী জানিয়েছে রেলমন্ত্রক? বলা হয়েছে, দক্ষিণ-মধ্য রেলের ১ হাজার ৪৬৫ কিলোমিটার অংশে ইতিপূর্বেই ‘কবচ’ প্রযুক্তির কাজ হয়েছে। ওই জোনের আওতায় থাকা ১৬২টি লোকোমোটিভ বা ট্রেন ইঞ্জিনেও তা কার্যকর হয়েছে। আরডিএসও ‘কবচ’ ৪.০ প্রযুক্তিতে অনুমোদন দেওয়ার পর এই মুহূর্তে তা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটিকে রেল জানিয়েছে, হাই-ডেনসিটি রুটে (এইচডিএন) ‘কবচ’ প্রযুক্তি বাস্তবায়নের কাজে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। রেলের পরিভাষায় হাই-ডেনসিটি রুটের অর্থ হল, যে অংশে ট্রেন চলাচলের সংখ্যা অন্যান্য শাখার তুলনায় বেশি। রেল জানিয়েছে, সেইমতো দিল্লি-মুম্বই এবং দিল্লি-হাওড়া রুটে ‘কবচ’ ৪.০ প্রযুক্তি রূপায়নের কাজ চলছে। সব মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটারে বাস্তবায়নের কাজে হাত দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ফায়ার সেফটি অডিট নিয়ে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি জানিয়েছে, তৃতীয় কোনো সংস্থাকে দিয়ে এই সমীক্ষা করাতে হবে। এর ফলে সার্বিক পরিস্থিতি আরও বেশি স্পষ্ট হবে। এরই পাশাপাশি কোনো অগ্নিকাণ্ড সংক্রান্ত কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ৩০ দিনের মধ্যে বিভাগীয় তদন্ত শেষ করতেই হবে। দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ করতে হবে। সংসদে পেশ করা রিপোর্টে এমনই সুপারিশ করেছে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি।