


সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: খড়্গপুর শহরের পুরীগেট এলাকায় ফের অবৈধ দখল উচ্ছেদের দিন স্থির করল রেল। আগামী ৭ জুন উচ্ছেদ হবে বলে জেলা প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে রেল। জানা গিয়েছে, এসপ্তাহের গোড়ায় রেলের পক্ষ থেকে এই চিঠি দেওয়া হয়। ডাকা হয়েছে সমন্বয় বৈঠকও। প্রশাসনের পাশাপাশি পুরসভার চেয়ারপার্সনকেও চিঠি দিয়েছে রেল। প্রসঙ্গত, তাদের জমি দাবি করে রেল ৪৫টি প্লটে অবৈধ দখল চিহ্নিত করে উচ্ছেদের নোটিস দিয়েছিল। জোরপূর্বক দখল উচ্ছেদ করার জন্য গত ৩ মে জেলা প্রশাসনের কাছে পর্যাপ্ত পুলিসও চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় তা পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা তৃণমূল নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে দখল উচ্ছেদ বিরোধী আন্দোলনে নামে। পুরসভার পক্ষ থেকেও বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য রেলকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। একদিকে খড়্গপুর বস্তিবাঁচাও সংগ্রাম কমিটির তীব্র আন্দোলন, অন্যদিকে প্রশাসনের কাছে ম্যান পাওয়া না পাওয়ায় উচ্ছেদ থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয় রেল। কিন্তু ফের তারা উচ্ছেদ করবে বলে জানিয়ে দিল। সূত্রের খবর রেলের পক্ষ থেকে এস্টেট অফিসার বিশ্বজিৎ ঘোষ এই চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে সেই সময় দখল উচ্ছেদের জন্য রেল সবরকম প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও পর্যাপ্ত পুলিস না পাওয়ায় দখল উচ্ছেদ করা যায় নি। পুলিস থেকে পরবর্তী দিন স্থির করতে বলা হয়েছিল। সেই মতো আগামী ৭ জুন দখল উচ্ছেদ করার জন্য দিন স্থির করা হয়েছে। চিঠিতে এও জানানো হয়েছে এব্যাপারে আজ বৃহস্পতিবার খড়্গপুর ডিআরএম অফিসে একটি সমন্বয় বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন এডিআরএম(প্রশাসন)। সেই বৈঠকে জেলা প্রশাসন ও পুলিস আধিকারিকদের থাকতে বলা হয়েছে। সেখানেই দখল উচ্ছেদের সমস্ত পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। সেই সময় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য ডিআরএম’কে চিঠি দিয়েছিলেন পুরসভার চেয়ারপার্সন কল্যাণী ঘোষ। চিঠিতে এও বলা হয়েছিল ওই জমি রেলের না পুরসভার তা অমীমাংসিত আছে। সেই চিঠির উত্তরে চেয়ারপার্সনকে লেখা চিঠিতে রেল জানিয়েছে জমিটি তাদের। বলা হয়েছে রেলের জমি দখল হলে নিয়মিত উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চলবে। এব্যাপারে পুরসভার হস্তক্ষেপ করা বা মতামত দেওয়ার আইনত কোনও অধিকার নেই। ডিআরএম অফিসের সামনে দখল উচ্ছেদ বিরোধী আন্দোলনে চেয়ারপার্সনের উপস্থিতি নিয়েই চিঠিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। চেয়ারপার্সন বলেন, রেলের চিঠি পেয়েছি। তার উত্তর দেওয়া হবে।