


রেলে দূরপাল্লার যাত্রী পরিষেবায় আরও নজর দেওয়া প্রয়োজন। কারণ যাত্রী নিরাপত্তা ও পরিষেবা নিয়ে মাঝে মাঝেই অভিযোগ ওঠে। যাত্রীদের একাংশকে নানা কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দেখা যায়, যা আদৌ বাঞ্ছনীয় নয়। কখনো বা খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে রাতের সফরে খাবারের মান এবং নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়। রেলের উচিত এই দিকটাতে আরও কঠোরভাবে নজরদারি করা। দরকারে স্বাধীন কোনো এজেন্সিকে তদারকির দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই রেলের কামরায় বেআইনিভাবে প্রবেশ রুখতেই হবে। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরিবার নিয়ে মানুষ সফর করেন। এই অবস্থায় কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা মোটেই কাঙ্ক্ষিত না। কোনো ঠিকাদার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া খাবার রাংতায় মুড়ে দিলে রেলকে ওই সংস্থাকে চিহ্নিত করে আজীবন কালোতলিকাভুক্ত করতে হবে।
এটা মানতেই হবে গত এক দশকে রেলের পরিকাঠামোগত উন্নতি হয়েছে যথেষ্ট। নতুন নতুন লাইন বসেছে। কাশ্মীরকে রেল মানচিত্রে যুক্ত করতে চেনাব নদীর উপর দিয়েও ট্রেন চলছে তরতরিয়ে। মেট্রো চলছে গঙ্গার তলা দিয়ে। রেল নেটওয়ার্কের এই সমৃদ্ধি, এই প্রসার নিশ্চিতভাবে চোখে পড়ার মতো। এতে যোগাযোগ আরও সহজ উন্নততর হয়েছে, সুগম হয়েছে যাতায়াত। এর তারিফ করতেই হয়। সামনেই বুলেট ট্রেন আসছে। আরও অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু পরিকাঠামোর প্রসার সব সময়ই উন্নততর পরিষেবা, পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যকর খাবার ও কঠোর নিরাপত্তা দাবি করে। দাবি করে সময়ানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলা। বিশেষ করে বন্দে ভারত, দুরন্ত, রাজধানীর মতো সুপারফাস্ট প্রিমিয়াম ট্রেনগুলিতে গাফিলতি যাত্রীদের সঙ্গে একপ্রকার প্রতারণারই শামিল। কখনোই তা হওয়া উচিত নয়। এতে মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা ধাক্কা খায়। ক্ষোভ বিক্ষোভ বাড়তে থাকে। রেল কর্তৃপক্ষও সব জানে, তবু মাঝেমাঝেই বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা ফিরে ফিরে আসে। সামনে আসে গাফিলতির নির্মম ছবি। সামনেই আসছে উৎসব মরশুম। আর কে না জানে বাঙালির পায়ে সর্ষে বাঁধা। তাই এখন থেকেই দূরপাল্লার ট্রেনে ঠাঁই নেই ঠাঁই নেই রব। বুকিং শুরু হওয়া মাত্র কয়েক সেকেন্ডে সব টিকিট শেষ। কামনা একটাই, এত কাঠখড় পুড়িয়ে যাঁরা টিকিট পেলেন তাঁদের যাত্রা যেন শুভ হয়, নিরাপদ হয়। কামরা সাফসুতরো থাকে, যাত্রাপথে জলের কষ্ট না হয়, এটা দেখা একান্ত কর্তব্য রেলের। অভিযোগ উঠেছে, বহুক্ষেত্রে নাকি নামীদামি ট্রেনে পর্যন্ত পচা খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে! অবিলম্বে রেলের উচিত তদন্ত করে ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাতেও কাজ না হলে প্রয়োজনে তার লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া। পানীয় জলও যেন স্বাস্থ্যকর ও জীবাণুমুক্ত হয়। রাতের যাত্রায় বেডরোল অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ। যাত্রীদের স্বাস্থ্যের কথা মেনে কম্বল বালিশ নিয়মিত পরিষ্কার করাও জরুরি। কিন্তু সবচেয়ে জরুরি বেস কিচেনগুলিতে নিয়মিত হানা দেওয়া, খাবারের মান পরীক্ষা করা। মেয়াদ উত্তীর্ণ কিছু ব্যবহার হলে যাত্রীরা কিছুই সহজে জানতে পারবেন না। খেয়ে শরীর খারাপ হলে বেড়ানোর আনন্দটাই যে মাটি। এবার সেই অভিযোগের পুনরাবৃত্তি বন্ধ হোক।
আইআরসিটিসি রেলেরই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগ। দূরপাল্লার যাত্রীদের পরিষেবা ও খাদ্য পরিবেশনে এই বিভাগটি নিরলস কাজ করে চলেছে। এখন আসন্ন উৎসব মরশুমের কথা মাথায় রেখে আগামী দু’মাস যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করে যেতে হবে তাদের। মনে রাখতে হবে রেলের যতই সম্প্রসারণ কিংবা উন্নয়ন হোক সবার উপর যাত্রী সত্য! সতর্ক রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সাহেব অত্যন্ত শিক্ষিত, কর্তব্যপরায়ণ ও দায়িত্বশীল মানুষ। নিশ্চয়ই এই দিকটায় তিনি আরও নজর দেবেন। শুধু বন্দে ভারত, বুলেট, রাজধানী, শতাব্দীর চাকচিক্যই নয়, উন্নত পরিষেবা মিললে সমগ্র ট্রেনযাত্রীরাই ধন্য ধন্য করবেন। কে না জানে রেলই এখনও দেশের লাইফলাইন! গরিব মানুষের যোগাযোগের সবচেয়ে সফল গণপরিবহণ মাধ্যম।