


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পানমশলার নেশাই বাঁচিয়ে দিল রমেশকে! না হলে হয়তো তারাতলায় মাটিতে মিশে যাওয়া গোডাউনের নীচে চাপা পড়ে প্রাণ হারাতে হত তাঁকেও! নাম রমেশ কালিন্দী। আরও অনেকের সঙ্গে তিনিও গত বছর দেড়েক তারাতলার এই গোডাউনে কাজ করছিলেন। তাঁর সঙ্গেই কাজ করেন তাঁর দাদা গণেশ কালিন্দী। এদিন যখন ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে, তার মাত্র মিনিট দশেক আগে তিনি পানমশলা কিনতে সামনের দোকানে গিয়েছিলেন। এসে দেখেন এই পরিস্থিতি। ধ্বংসস্তূপ থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে হাউহাউ করে কাঁদছিলেন রমেশ। তাঁর দাদা ছাড়াও একসঙ্গে কাজ করেন, এমন অনেকের কোনো খোঁজ তিনি তখনও পাননি। রমেশ বলছিলেন, ‘আমরা ৫০ জনের বেশি এখানে কাজ করি। দুপুরের দিকে কাজের ফাঁকে দোকানে পাননশলা আনতে গিয়েছিলাম। আচমকা প্রচণ্ড শব্দ শুনতে পাই। একটু দূরে ছিলাম। কীসের শব্দ বুঝতে পারিনি তখন। তারপর যখন গলিতে ঢুকলাম, দেখি লোকজন দৌড়াদৌড়ি করছে। আমাকে একজন বলল, তোদের গোডাউন ভেঙে পড়েছে। এসে দেখি, গোটা ছাদ ভেঙে পড়েছে। সবাই চাপা পড়েছে। আমরা ওদের বার করার চেষ্টা করি। কিন্তু করতে পারিনি। দাদাকেও খুঁজে পাচ্ছি না।’
‘বেহেরা ব্রাদার্স’-এর সঙ্গে ট্রান্সপোর্ট সংক্রান্ত ব্যবসা করেন মনোরঞ্জন। তাঁর কথায়, ‘এই কোম্পানির সঙ্গে বহুদিন ব্যবসা করছি। যখন ঘটনা ঘটেছে, পাশেই ছিলাম। ছুটে এসে দেখি, চারদিকে ধুলো। গোটা গুদাম ডেমোলিস হয়ে গিয়েছে। একজনের হাত বেরিয়ে থাকতে দেখি। ওকে কোনোভাবে বার করার চেষ্টা করি। আমরা তখন মাত্র চার-পাঁচজন উদ্ধারের জন্য ছুটোছুটি করছি। আমাদের পাগল পাগল অবস্থা তখন।’
ঘটনাস্থলে কাজ করছিলেন শ্যামল মণ্ডল, ধর্মেশ সাউ। তাঁদের কথায়, ‘আমরা খাবার খাব বলে হাত-পা ধুতে গিয়েছিলাম। আচমকা যেন কেঁপে উঠল চারপাশ। পিছন ফিরে দেখি, গোটা ছাদ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে। আমরা কী করব, বুঝতে পারছিলাম না। একসঙ্গে বহু লোক কাজ করে এখানে। অন্তত ৫০ জন তো চাপা পড়েছেই। বরাতজোরে আমরা কয়েকজন বেঁচে গিয়েছি। এখনও হাত-পা কাঁপছে। পাঁচ মিনিট আগে এই ঘটনা ঘটলে আমরাও ধ্বংসস্তূপের নীচেই থাকতাম।’