


সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রেশন সামগ্রী বিলিতে অনিয়মের অভিযোগ তুলে শুক্রবার নলহাটি-১ ব্লকের কয়থা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ভেলিয়ান গ্রামের রেশন দোকানের সামনে বিক্ষোভ দেখালেন উপভোক্তারা। ডিলারের বাড়ি ঘিরে ভাঙচুর ও মারমুখী হয়ে ওঠেন উপভোক্তারা। প্রথমে প্রধান ও পরে খবর পেয়ে জয়েন্ট বিডিও এবং পুলিস এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
উপভোক্তাদের অভিযোগ, ভেলিয়ান গ্রামের নইমাতুন বিবির নামে রেশন ডিলারের লাইসেন্স রয়েছে। কিন্তু, তিনি কখনও নিজে, কখনও ছেলে এবং বর্তমানে জামাই মাইনো শেখকে পাওয়ার অফ অ্যার্টনি দিয়েছেন। এর আগে তাঁর ছেলে আবাদ শেখ অনিয়মিত রেশন দিয়ে এসেছেন। এছাড়া মাথাপিছু বরাদ্দের চেয়ে পরিমাণে কম সামগ্রী দেওয়া হতো। এর প্রতিবাদে দু’-দু’বার বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। যার জেরে প্রশাসন ওই ডিলারকে সাসপেন্ড করেন। তখন কিছুটা দূরের তকিপুর গ্রামের ডিলার এসে এখানে সামগ্রী বিলি করে যেতেন। তারপরও সে নিজেকে শুধরে নেয়নি। বিগত দু’মাস ধরে ঠিকমতো রেশন দেওয়া হচ্ছে না।
জানা গিয়েছে, এদিনই প্রথম মাইনো শেখ রেশন সামগ্রী দেওয়া শুরু করেন। তখনই উপভোক্তারা জড়ো হয়ে বিগত দু’মাসের রেশন আগে মেটানোর দাবি করেন। কিন্তু মাইনো তা মানতে রাজি না হওয়ায় তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। মারধর ও ভাঙচুরে উদ্যত হয়ে ওঠেন বিক্ষোভকারীরা। খবর পেয়ে গ্রামেরই বাসিন্দা পঞ্চায়েতের প্রধান আক্তারুজামান এসে আইন হাতে না নেওয়ার জন্য গ্রামবাসীদের অনুরোধ জানান। পরে জয়েন্ট বিডিও শুভেন্দু মাইতি ও পুলিস এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
গ্রামেরই বাসিন্দা প্রধান বলেন, এর আগেও ওই ডিলারের দোকানে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন উপভোক্তারা। এক মাস মাল দিচ্ছে তো পরের মাসে দিচ্ছে না। বিগত দু’মাস ধরে সরকারি বরাদ্দমতো উপভোক্তাদের সামগ্রী দেয়নি ডিলারের ছেলে। এদিন গ্রামবাসীরা সেই সামগ্রী আগে দেওয়ার দাবি করেন। কিন্তু ডিলারের জামাই বলে, আগে কী হয়েছে জানি না। মার্চ মাস থেকে আমি দায়িত্ব নিয়েছি। এই মাসের মাল তুলেছি। সেটাই দিচ্ছি। এরপরই গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখায়। প্রশাসন যদি এই পরিবার বাদে অন্য কাউকে ডিলার হিসাবে নিযুক্ত করে তাহলে ভালো হয়।
যদিও মাইনো শেখ বলেন,আমাকে পাওয়ার অব অ্যার্টনি দেওয়ার সময় শ্যালক বলেছিল উপভোক্তারা কিছু সামগ্রী পাবে। কিন্তু, কত কী সামগ্রী তা বলা হয়নি। এদিন রেশন বিলি করতে গেলে উপভোক্তারা এসে বলে আগে পুরনো হিসাব মেটাতে হবে। এই নিয়েই ঝামেলা হয়েছে। এখন প্রশাসন যা সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই হবে।
জয়েন্ট বিডিও বলেন, আপাতত রেশন বিলি বন্ধ করতে বলা হয়েছে। যিনি আগে চালাতেন এবং বর্তমানে যিনি দায়িত্ব নিয়েছেন দু’জনকে ব্লকের সাব ফুড ইন্সপেক্টরের অফিসে যেতে বলা হয়েছে। সেখানে দু’পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।