


নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি: কয়েকঘণ্টার ব্যবধান। এরইমধ্যে তাঁদের বাড়ির সামনে থেকে জটলা উধাও। অনুগামীদের ভিড় হালকা। কার্যত নিঃসঙ্গ হয়ে পড়লেন উত্তরের দুই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ।
রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ও খগেশ্বর রায়। প্রথমজন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কোচবিহার পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান। আর দ্বিতীয়জন জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের চারবারের বিধায়ক। দু’জনেই তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে প্রথম থেকেই। কিন্তু এবার শিকে ছেঁড়েনি। দলের প্রার্থী হতে না পেরে মুষড়ে পড়েছেন তাঁরা।
ভোটের রণকৌশল ঠিক করতে যখন দলের জেলা কার্যালয়ে বৈঠক হচ্ছে, দলের প্রার্থীদের জেতাতে পুরোদমে প্রচারে নেমে পড়েছেন তৃণমূল কর্মীরা, তখন বুধবার বাড়িতে স্রেফ টিভি দেখে, খেয়েদেয়ে গায়ে লেপ জড়িয়ে ঘুমিয়ে সময় কাটালেন রবি। এ যেন কুরুক্ষেত্রের ময়দানে শরবিদ্ধ পিতামহ ভীষ্ম!
অন্যদিকে, দেরিতে ঘুম থেকে উঠে বেলা পর্যন্ত রাজগঞ্জের শিকারপুরের পাতিলাভাসার বাড়িতে থেকে বেলাকোবা রেলগেটের পাশে পুরনো আড্ডাখানায় গেলেন খগেশ্বর। মন হালকা করতে বেশ কিছুক্ষণ গল্পগুজব করলেন বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে। তারপর ফের বাড়িতে। আর বের হননি। সময়ের সঙ্গে তাঁকে ঘিরে অনুগামীদের চেনা ভিড় আলগা হতে শুরু করেছে। লাগাতার মোবাইলে রিং হয়ে গেলেও বেশিরভাগ ফোন রিসিভ করেননি। কথা বলতে চাননি দলের নেতাদের সঙ্গেও। প্রার্থী হতে না পেরে তাঁর বিষয়ে দলকে পুনর্বিবেচনা করার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিলেন খগেশ্বর। জানিয়েছিলেন, আজ, বৃহস্পতিবার বেলা এগারোটা নাগাদ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত তা থেকে পিছিয়ে এসেছেন। এদিন রাতে জানিয়েছেন, এখনই কিছু ঘোষণা করছি না। সময় হলে বলব।
এই পরিস্থিতিতে খগেশ্বরকে উদ্দেশ্য করে তোপ দাগতে ছাড়েননি তৃণমূল কংগ্রেসের জলপাইগুড়ি আসনের প্রার্থী তথা দলের এসসি ওবিসি সেলের জেলা সভাপতি কৃষ্ণ দাস। বলেছেন, কে খগেশ্বর? তাঁকে ছাড়াই রাজগঞ্জ আসনের দলীয় প্রার্থী স্বপ্না বর্মন বিপুল ভোটে জিতবেন। আমি নিজে স্বপ্নার হয়ে প্রচার করব। ওঁকে জেতানোর দায়িত্ব আমার।
অন্যদিন সকাল থেকে বাড়িতে যাঁরা আসেন, তাঁদের সঙ্গে কথাবার্তা সেরে নাটাবাড়ি যাওয়ার তাড়া থাকে রবি ঘোষের। এদিনও কিছু লোক এসেছেন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন। মোবাইলে প্রচুর ফোন আসছে। সেসব রিসিভ করেছেন। কিন্তু নাটাবাড়িমুখো হননি। তবে আপাতত নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু বলতে চাইছেন না তিনি। শুধু বলেছেন, প্রথমদিন থেকে দল করছি। যখন কেউ ছিল না, তখন বামেদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছি। শূন্য থেকে শুরু করে একশোতে পৌঁছেছিলাম। গত নির্বাচনে হেরে গেলেও ফের জমি তৈরি করি নাটাবাড়িতে। রাজনৈতিক জীবনের শেষপ্রান্তে এসে টিকিট পেলাম না। এটা দুর্ভাগ্য। বিরাট ষড়যন্ত্রের শিকার হলাম। আর রাজনীতি করব কি না, তা পরে বলব।
রবির কথারই প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছে খগেশ্বরের গলায়। বলেন, কংগ্রেসের হয়ে ১৯৮৩ সালে আমি প্রথম পঞ্চায়েত সদস্য। প্রথমদিন দিন থেকে তৃণমূলের সৈনিক। সিপিএমের মার খেয়েছি। আমাকে লক্ষ্য করে গুলি চলেছে। জমি বিক্রি করে ভোটে দাঁড়িয়েছি। ২০০৯ সালে উপনির্বাচনে জিতে প্রথম বিধায়ক হই। তারপর আরো তিনবার বিধানসভায় জিতেছি। আমাকে টিকিট দেবে না, এটা আগে জানাতে পারত দল। • নিজের বাড়িতে খগেশ্বর। - নিজস্ব চিত্র।