


প্রযোজক হিসেবে ‘লা-ইলাজ’-কে মঞ্চে আনার ভাবনাটা কীভাবে এল?
এটা মৃদুলার ভাবনা ছিল। আমাদের জীবনে থিয়েটার এত কিছু দিয়েছে, তাই মনে হল, আমরাও যদি থিয়েটারকে কিছু ফিরিয়ে দিতে পারি, সেটাই হবে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এই ভাবনা থেকেই ‘লা-ইলাজ’-এর জন্ম হয়।
এই নাটকের অভিনেতাদের সম্পর্কে কী বলবেন?
আমরা চেয়েছিলাম, আমাদের মতো আরও অনেকেই এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হোক। এই নাটকের অর্ধেকেরও বেশি শিল্পী ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা থেকে পাশ করেছেন। তাঁরা মুম্বইয়ে নিজেদের জায়গা তৈরি করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছেন। আমরা ভেবেছিলাম, এই প্ল্যাটফর্মটা তাঁদের জন্য একটা সুযোগ হতে পারে। থিয়েটারের মাধ্যমে যদি তাঁরা পারিশ্রমিক পান, তাহলে তাঁদের সংগ্রামের পথটা কিছুটা হলেও সহজ হবে।
আপনার মেয়ে আশি ‘লা-ইলাজ’-এর মাধ্যমে অভিনয় জগতে পা রেখেছেন। পঙ্কজ ত্রিপাঠীর মেয়ে হওয়ার জন্য কি শুরুটা সহজ হল?
এটা শুধু আশির জন্য নয়, দলের প্রত্যেকের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
আপনার সহধর্মিণী এই নাটকের প্রযোজক, আর আপনি সহপ্রযোজক। এখানে আপনার কতটা ইনপুট আছে?
ম্যামই সব সিদ্ধান্ত নেন (সশব্দে হেসে)। পুরো দায়িত্ব ওঁর। আমি শুধু সৃজনশীল দিকটা দেখি। চিত্রনাট্য কেমন হবে, সেটা নিয়ে কাজ করি। আসলে ও খুব পরিশ্রম করছে। বাড়ি থেকে রান্না করে ৩০ জনের জন্য খাবার পাঠায়, সকলকে খাওয়ায়। নাটকের সকলেই আমাদের পরিবারের সদস্য। তাঁদের সবকিছুই আমরা দেখভাল করি।
মুম্বই, দিল্লির পর এবার কলকাতায় ‘লা-ইলাজ’ মঞ্চস্থ হবে। কলকাতা নিয়ে কী ভাবনা?
কলকাতার দর্শক সত্যিই খুব সমৃদ্ধ। এই শহরে শিল্প এবং সংস্কৃতির এক্সপোজার অনেক বেশি। কলকাতায় আমরা আরও বড়ো আকারে আসছি, এটুকু বলতে পারি।
কলকাতা বলতে প্রথমেই কী মাথায় আসে?
কলকাতায় তো আমার শ্বশুরবাড়ি। আর শ্বশুরবাড়ির জন্যই কলকাতা আমার প্রিয় শহর। ওখানকার খাবার, সাহিত্য, মানুষ, সংস্কৃতি, সবই আমার খুব ভালো লাগে। কলকাতায় এসে প্রথমেই পাতুরি খাব বলে ভেবেছি (হেসে)।
১৫ বছর পর মঞ্চে ফিরে কেমন লাগছে?
সত্যি বলতে, এই নাটকটা করার পর আমার লোভ আরও বেড়ে গিয়েছে। এখন আমার ইচ্ছে করছে, একটা পূর্ণ দৈর্ঘ্যের নাটক করি, যেখানে দেড় ঘণ্টা আমিই পারফর্ম করব। সিনেমার আগে মঞ্চই তো ছিল সবকিছু। আগে বছরে তিনটে নাটক করতাম, সারা ভারত ঘুরে ঘুরে নাটক করতাম। আবার যদি তেমন কিছু করতে পারি...।
অভিনয় জীবনে কোনো অনুশোচনা রয়েছে?
জীবনে ‘রিগ্রেট’ রেখে দিলে অযথা সমস্যা বাড়ে। জীবন তো বর্তমানেই, আর ‘রিগ্রেট’ সবসময় অতীত নিয়ে হয়, যা বর্তমানকে নষ্ট করে। ফলে অনুশোচনা করলে সময় নষ্ট।
দেবারতি ভট্টাচার্য • মুম্বই