


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত পাঁচ বছর রেপো রেট অপরিবর্তিত রেখেছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। সেই হার ছিল ৬.৫ শতাংশ। তা নিয়ে ক্ষোভ জমছিল শিল্পমহলের। কারণ, রেপো রেটের উপর নির্ভর করে ব্যাঙ্কের সুদের হার। রেপো রেট কমালে সাধারণত ব্যাঙ্ক সুদের হার কমায়। আমানত ও ঋণ—দু’য়ের উপরই তার প্রভাব পড়ে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ২৫ বেসিস পয়েন্ট বা ০.২৫ শতাংশ রেপো কমায় আরবিআই। গত এপ্রিলে তা আরও ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে রেপো রেট নামানো হয় ৬ শতাংশে। তার জেরে ইতিমধ্যেই গাড়ি-বাড়িসহ অন্যান্য ঋণের উপর সুদের হার কমতে শুরু করেছে। আগামী শুক্রবার নতুন রেপো রেট ঘোষণা করার কথা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, যেহেতু মূল্যবৃদ্ধি কিছুটা কমতির দিকে বলে দাবি করেছে কেন্দ্র, তাই ফের এক দফা রেপো রেট কমাবে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। তা হতে পারে ২৫ বেসিস পয়েন্ট। তবে স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া তাদের একটি রিপোর্টে সোমবার পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি জুনে আরবিআই এক ধাক্কায় ৫০ বেসিস পয়েন্ট রেপো কমাতে পারে। এই অর্থবর্ষ, অর্থাৎ ২০২৫-২৬ সালে মোট ১০০ বেসিস পয়েন্ট বা ১ শতাংশ রেপো কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে তারা।
এসবিআই আগেও দাবি করেছিল, একটু একটু করে রেপোর হার না কমিয়ে এক ধাক্কায় তা অনেকটা কমালে, তার সুফল মিলবে অর্থনীতিতে। দেশের সবচেয়ে বড় এই বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক এবার দাবি করেছে, ভালো বর্ষার পূর্বাভাস এবং পর্যাপ্ত ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা থেকে ধরে নেওয়া যায় বাজার দর কমের দিকে থাকবে। অপরিশোধিত তেলের দামও যেহেতু আন্তর্জাতিক বাজারে পড়েছে, তার সদর্থক প্রভাবও পড়বে অর্থনীতিতে। এর ফলে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার ৩.৫ শতাংশে থাকতে পারে বলে মনে করছে এসবিআই। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক আগেই জানিয়েছিল, খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার ৪ শতাংশের আশপাশে থাকলে, তা দেশের অর্থনীতিতে সুবিধাজনক জায়গা করে দেবে। যদি সেই হার ৩.৫ শতাংশে নেমে আসে, তাহলে রেপো রেট অনেকটাই কমানোর দিকে এগতে পারে আরবিআই, মনে করছে স্টেট ব্যাঙ্ক।
তাদের বক্তব্য, ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের তরফে ৫০ বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট কমানোর প্রভাব যেমন ঋণের সুদের উপর পড়েছে, তেমনই বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ভেদে ফিক্সড ডিপোজিটে সুদের হারও ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ কমেছে। আগামী দিনে তা আরও কমবে। তবে তার জেরে ব্যাঙ্কগুলির নগদ জোগান কমবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, আরবিআই নিজেদের বার্ষিক রিপোর্টেই দাবি করেছে, সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের প্রবণতা বজায় থাকবে।