


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বাজারে গিয়ে সাধারণ মানুষ টের পাচ্ছেন না। রিজার্ভ ব্যাংকের নীতি নির্ধারকরা কিন্তু নিশ্চিত যে, খাদ্যের দাম অনেক কমে গিয়েছে। এমনকি আগামী দিনে তা আরও কমবে। সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতাও অনেক কম। সেই কারণেই শুক্রবার নীতি নির্ধারণ কমিটির বৈঠকের শেষে রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা ঘোষণা করলেন, রেপো রেট আরও কমিয়ে দেওয়া হল। ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমে গিয়ে রেপো রেট হচ্ছে ৫.২৫ শতাংশ। যা গাড়িবাড়ি ক্রয়ের জন্য ব্যাংকঋণের সহায়ক হবে। সাধারণ মানুষের ঋণ শোধের ইএমআই-এ স্বস্তি আনতে পারে। রিজার্ভ ব্যাংক মনে করছে, চলতি আর্থিক বছরের শেষে সামগ্রিক বছরের মূল্যবৃদ্ধির হার হবে ২ শতাংশ। যা অক্টোবর মাসে বলা হয়েছিল ২.৬ শতাংশ। কেন খাদ্যের মূল্য নিয়ে এতটা আশাবাদী মনোভাব? সঞ্জয় মালহোত্রার কথায়, খরিফ শস্যের উৎপাদন ইতিবাচক। রবিশস্য চাষের গতিপ্রকৃতিও যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। সঞ্চিত জল এবং ফসল সহায়ক মৃত্তিকার অবস্থাও বেশ ইতিবাচক। সবমিলিয়ে ইতিমধ্যেই যেমন কমেছে খাদ্যের মূল্য, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জিএসটি কমে যাওয়া। অতএব খাদ্যবাবদ সাধারণ মানুষের ব্যয় কমে গিয়েছে বলে মনে করছে রিজার্ভ ব্যাংক। কিন্তু বাস্তব কী সেরকমই বলছে? বাজারে গিয়ে মধ্য ও নিম্নবিত্তের কি সেরকমই মনে হচ্ছে? বরং বহু সবজি স্পর্শ করা যাচ্ছে না। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক চলতি আর্থিক বছরের শেষে জিডিপি বৃদ্ধিহারের পূর্বাভাস দিয়েছে ৭.৩ শতাংশ। যা অক্টোবর মাসে বলা হয়েছিল ৬.৮ শতাংশ। অর্থাৎ অন্তত তথ্য-পরিসংখ্যান এবং বিশ্লেষণ অনুযায়ী দেশের অর্থনীতি যথেষ্ট স্বাস্থ্যকর অবস্থার দিকে অগ্রসর হয়েছে। এমনকি রপ্তানি বাণিজ্যেও আঘাত আসার আশঙ্কাকেও উড়িয়ে দিয়েছেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর। তিনি বলেছেন, মার্কিন শুল্কের বিরাট কোনও বিরূপ প্রভাব ভারতের রপ্তানি বাণিজ্যে পড়েনি। বরং ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যের অগ্রগতি এবং বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার যথেষ্ট বেশি। এমনকি মুদ্রার পতনেও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক উদ্বিগ্ন নয়। গভর্নর বলেন, আমরা মার্কেটের ওঠা-পড়ার উপর ছেড়ে দিতে চাই টাকার গতিপ্রকৃতি। এর আগেও টাকার পতন হয়েছে। ১ ডলারের দাম ৮৯ টাকা হয়েছে। আবার ৮৪ টাকায় ফিরে গিয়েছে। এবারও সেরকমই হতে পারে। সোজা কথায়, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মনোভাব এবং নীতি নির্ধারণ তথা বিবৃতি থেকে বার্তা স্পষ্ট যে, ভারতের অর্থনীতি, শিল্প, আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য সবই প্রবল আশাব্যঞ্জক। বাস্তবে কি তার প্রতিফলন পাওয়া যাচ্ছে? তবে কোনও সন্দেহ নেই রেপো রেট ক্রমেই কমতে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য বড়সড় স্বস্তির বার্তা। বন্ধন ব্যাংকের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সিদ্ধার্থ স্যান্যাল জানিয়েছেন, আগামী ১২ মাস গড় মুদ্রাস্ফীতি তিন শতাংশের মতো থাকবে। তাই প্রকৃত সুদের হার এখন আরবিআই-এর মাপকাঠির তুলনায় বেশিই থাকছে। ফলে আগামী দিনে এই সুদের হার আরও কমার সম্ভাবনা থাকছে।