


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা পুরসভার অন্দরে বড়োসড়ো রদবদল হল। ১০ জন শীর্ষকর্তার বিভাগ বদল করা হয়েছে। তার মধ্যে এক অফিসারের বদলি নিয়ে পুরসভার অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছে। একটি বিভাগের জন্য নির্দিষ্টভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন চিফ মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারকে (সিএমই) কীভাবে তাঁর পদমর্যাদার থেকে অনেক কম মর্যাদার পদে বদলি করা যায়, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
উল্লেখ্য, বর্তমানে কলকাতা পুরসভায় মাত্র একজন সিএমই রয়েছেন। তাঁর নাম শুভাশিস চট্টোপাধ্যায়। গত বেশ কয়েকবছর ধরে তিনি জঞ্জাল অপসারণ ও
কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর পদের নাম ‘সিএমই, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট’। পুরসভার অন্দরে গুঞ্জন, প্রশাসক স্মিতা পান্ডের বিরাগভাজন হওয়ায় তাঁকে কয়েক মাস আগে ওই পদ থেকে সরিয়ে কেএমসি-শার্প বিভাগের দায়িত্বে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেই বদলি আইনি নয় বলেই দাবি ওঠে পুরসভার অন্দরে।
এরপর সেখান থেকেও শুভাশিসবাবুকে সরিয়ে পুরসভার স্টোর ও পার্চেজ বিভাগের ডিজি পদে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু, সেটাও আইনসিদ্ধ নয় বলেই মত ইঞ্জিনিয়ার মহলের।
ইঞ্জিনিয়াররা জানাচ্ছেন, একটি বিভাগের নির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএমইকে এভাবে নীচু পদে পাঠানো যায় না। তাঁকে সম মর্যাদার কোনো পদ
দিতে হতো। যে পদ তাঁকে দেওয়া হয়েছে, সেটা এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য।
অন্যদিকে, সড়ক বিভাগের ডিজি সুকান্ত দাসকে সরিয়ে এমপি ল্যাড ও অ্যাসফাল্টাম বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ডিজি (মেকানিক্যাল) বিষ্ণু দাস মন্ডলকে অ্যাসফাল্টামের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অতিরিক্তভাবে কারপুল দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুভজিৎ দাশগুপ্তকে সড়ক বিভাগের ডিজি করা হয়েছে। বিল্ডিং বিভাগের থেকে সরিয়ে উজ্জ্বলকুমার সরকরেকে উত্তরণ (বস্তি) বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বিল্ডিং বিভাগের কার্যনির্বাহী ডিজি
হয়েছেন বিপ্লব পাল। দুর্জয় সরকারকে উদ্যান বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উদ্যান বিভাগ থেকে শান্তনু রায়কে সরিয়ে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পাঠানো হয়েছে। বাজার বিভাগের কার্যনির্বাহী ডিজি করা হয়েছে মৃদুল মন্ডলকে। মৃণালকান্তি মন্ডলকে পাঠানো হয়েছে কেএমসি-শার্পে।