


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সোমবার সুপ্রতিম সরকারের জায়গায় শহরের নতুন পুলিশ কমিশনার (সিপি) হিসেবে দায়িত্ব নেন অজয় কুমার নন্দা। দায়িত্ব গ্রহণের পর ভোটের সময় শহরের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিনি যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তা জানালেন নয়া সিপি। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে সিপি অজয় কুমার নন্দা বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ ভোট পরিচালনা করাই আমাদের লক্ষ্য। তার জন্য পুলিশবাহিনী বদ্ধপরিকর।’
দায়িত্ব নেওয়ার পর সোমবার রাতে শহর পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন অজয় কুমার। জানা গিয়েছে, প্রাথমিকভাবে নাকা চেকিংয়ের উপর জোর দিতে নিজের বাহিনীকে নির্দেশ দেন সিপি। তারপর সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে যা যা করণীয় সে সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে কোনওভাবেই না ঘটে, সে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। কলকাতার স্পর্শকাতর এলাকাগুলি চিহ্নিত করে সেসব জায়গায় চলবে বাড়তি নজরদারি। কলকাতা পুলিশ বিভিন্ন ক্ষেত্রের জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) জারি করেছে। তা ঠিকমতো মেনে চলা হচ্ছে কি না, সে বিষয়টিও দেখা হচ্ছে।’ এছাড়া তিনি জানান, শহরে যাতে কোনওভাবে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র, অস্ত্র বা বিস্ফোরক না ঢুকতে পারে দেখা হচ্ছে সে বিষয়টিও। এর জন্য প্রতিটি থানাকে বাড়তি সতর্ক থাকতে দেওয়া হয়েছে নির্দেশ। স্পেশাল নাকা তল্লাশি সহ যা যা পদক্ষেপের প্রয়োজন, সব করা হবে। এছাড়াও বিধানসভা নির্বাচন সংক্রান্ত কোনোরকম ভুয়ো খবর বা গুজব যাতে না ছড়ায়, সে দিকে সর্বক্ষণ কড়া নজর রাখবে কলকাতা পুলিশ।
১৪ মার্চ রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। নির্বাচন কমিশন ঘটনার পর ক্ষোভপ্রকাশ করেছিল কলকাতা পুলিশের ভূমিকায়। ‘গণ্ডগোলের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কেন কাজে লাগানো হয়নি?’ এই মর্মে তৎকালীন সিপি সুপ্রতিম সরকারের কাছে রিপোর্টও তলব করেছিল। এই বিষয়টি সম্পর্কে বর্তমান সিপি বলেন, ‘প্রথমত, যে কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কলকাতা পুলিশ একাই যথেষ্ট। দ্বিতীয়ত, কলকাতায় খুব বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী নেই। এখনও পর্যন্ত ৩০ কোম্পানি এসেছে শহরে। ওই দিন ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল না। তাছাড়া বাহিনী মোতায়েনেরও কিছু নিয়ম ও নির্দেশিকা আছে। তা লঙ্ঘন করা যায় না।’ একই প্রসঙ্গে তিনি আরও সংযোজন করেন। বলেন ‘আমি নিশ্চিত করছি, এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আর ঘটবে না। এরপর কোনও মিটিং, মিছিল বা সমাবেশ থাকলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলির নিরাপত্তা আরও আঁটোসাঁটো করা হবে।’