


নয়াদিল্লি: মুল্যবৃদ্ধিতে লাগাম টানতে কয়েকদিন আগেই রেপো রেট বাড়িয়েছিল রিজার্ভ ব্যাংক। এরফলে গাড়ি-বাড়ির ঋণে ইএমআইয়ের বাড়তি বোঝা চাপবে বলে আশঙ্কা। এরইমধ্যে মুদ্রাস্ফীতি নিয়েও অস্বস্তিকর তথ্য সামনে এল। আরও মাথা তুলল খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার। আদা, পেঁয়াজ, রসুন সহ একাধিক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দর অগ্নিমূল্য। বেশ কিছুদিন ধরেই এই পরিস্থিতি চলছে। এরই প্রভাব পড়ল মুদ্রাস্ফীতির পরিসংখ্যানে। গত আগস্ট মাসে খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৪.৮৩ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে তা আরও বেড়ে পৌঁছল ৫.৫৪ শতাংশে। তবে এই হার রিজার্ভ ব্যাংকের সহনশীলতার মাত্রার মধ্যেই রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সোমবার জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি গত আগস্ট মাসে ছিল ৫.৯৭ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে হয়েছে ৭.৭৪ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে পেঁয়াজ (১০৮.০৯ শতাংশ), রুপোর গয়না (৮৭.৮ শতাংশ), আদা (৬২.৮৫ শতাংশ), রসুন (৫৪.৬২ শতাংশ) ও লেবুর (৩৬.৪১ শতাংশ)। অন্যদিকে আলু, টম্যাটো, মোটরগাড়ি, ঢেঁড়স ও নারকেলের মূল্যবৃদ্ধি নেতিবাচক। গ্রাম ও শহরে এই মূল্যবৃদ্ধির হার যথাক্রমে ৬.০৮ ও ৪.৮৮ শতাংশ। চার বছর পর গত সপ্তাহেই রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছে রিজার্ভ ব্যাংক। সেসময়ই মূল্যবৃদ্ধির মাথা তোলার ইঙ্গিত দিয়েছিল আরবিআই। বর্তমান আর্থিক বছরে মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৫শতাংশ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছিল ৫.২ শতাংশ।
মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে তামিলনাড়ু, ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশে। তালিকার সবচেয়ে নীচে উত্তরপূর্বের মিজোরাম। ক্রিসিলের প্রধান অর্থনীতিবিদ দীপ্তি দেশপাণ্ডে এই বিষয়ে বলেছেন, ‘অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও ব্যাপক চাহিদার কারণেই মূল্যবৃদ্ধি বাড়ছে।’ অন্যদিকে এমকে গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেসের অর্থনীতিবিদ অভি অরোরা বলেছেন, ‘তেলের দামের পাশাপাশি এল নিনোও মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বছরের বিভিন্ন সময়ে উৎপাদনের তারতম্য ও জৈব জ্বালানির তৈরির ক্ষেত্রে ব্যাপক চাহিদা বেড়ে যাওয়াও মূল্যবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করছে।’