


আমাদের এই পৃথিবী সত্যিই এক বিচিত্র জায়গা। এখানে এমন অনেক কিছুই রয়েছে যার ব্যাখ্যা মেলা কঠিন। তেমনই কিছু জায়গার সঙ্গে তোমাদের পরিচয় করাচ্ছেন
কমলিনী চক্রবর্তী।
নিউ মেক্সিকোর কোচিটি পুয়েব্লো অঞ্চলে গেলে এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে সারি সারি তাঁবু খাটানো। কিন্তু কাছে গেলেই ব্যাপারটা উলটো হয়ে যায়। কীরকম? তাঁবুগুলো কাপড়ের নয়, বরং পাথরের! একের পর এক একই আকৃতির পাথরের তৈরি যেন স্থাপত্য। যা দূর থেকে দেখলে মনে হয় অনেকগুলো তাঁবু পাতা রয়েছে গোটা অঞ্চল জুড়ে। এই তাঁবুগুলো দেখতে দিনেরবেলায় যেতে হবে। কারণ সন্ধের পর এখানে যাওয়া মানা। তখন নাকি পশু-পাখির দখলে চলে যায় এই অঞ্চল। তাছাড়া দিনে না গেলে এই টেন্ট রকস-এর সৌন্দর্য দেখা বা উপভোগ করা সম্ভবও নয়। যাই হোক, এখানে পৌঁছলে দেখা যায়, পাথরের এই তাঁবুর মাঝখান দিয়ে একটা সরু রাস্তা চলে গিয়েছে এঁকেবেঁকে। সেই পথ বরাবর চলতে শুরু করলে দেখবে ক্রমশ রাস্তাটা উপর দিকে উঠে যাচ্ছে। আর রাস্তা ধরে উপরে ওঠার পর রয়েছে একটা ভিউ পয়েন্ট। সেখান থেকে সব তাঁবুগুলো একইসঙ্গে দেখা যায়।
এতদূর পড়ার পর হয়তো তোমাদের জানতে ইচ্ছে করছে এমন একই আকারের পাথর একই জায়গায় জমা হল কেমন করে? এই অঞ্চল থেকে সামান্য দূরেই ছিল জেমস আগ্নেয়গিরি। এই আগ্নেয়গিরি ফেটে যখন দুরন্ত গতিতে লাভা বেরতে শুরু করে, তখন আশপাশের মাটি ফেটে গিয়ে পাথর ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায়। সেই পাথরগুলোই ভেঙে কোণের আকার ধারণ করে এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে জমে গিয়ে তৈরি করে এই পাথুরে তাঁবু বা টেন্ট রকস। প্রকৃতির আপন খেয়ালে সৃষ্টি হওয়া সেই তাঁবুগুলোকে কেন্দ্র করেই এখন জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র তৈরি হয়েছে। মাথার উপর নীল আকাশ আর চারপাশে গেরুয়া পাথরের সারিবদ্ধ তাঁবু যেন অন্তর্যামীর হাতে গড়া অপরূপ ভাস্কর্য। তবে এখানে প্রকৃতি রুক্ষ ও গরম। ফলে গ্রীষ্মকালে যেতে চাইলে ভোরবেলা উঠে বেরিয়ে পড়তে হবে এই টেন্ট রকস দর্শনের জন্য। বেলা এগারোটার পর গরম এতই বেড়ে যায় যে, তা আর পর্যটকদের জন্য মনোরম থাকে না।