


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: আজ, বৃহস্পতিবার বর্ধমানে আসছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। শুক্রবার পর্যন্ত তিনি থাকবেন। মধ্যবঙ্গ অর্থাৎ দুই বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, হুগলি, নদীয়া এবং মুর্শিদাবাদের একাংশের কার্যকর্তাদের সঙ্গে তিনি দফায় দফায় বৈঠক করবেন। এদিন দেওয়ানদিঘির একটি স্কুলের হলঘরে ১ হাজার ২০০জন প্রতিনিধির সঙ্গে তাঁর বৈঠক করার কথা রয়েছে। পরে তিনি উল্লাসে আরএসএস অফিসে আসবেন। সেখানে বিভিন্ন রাজ্যের আরএসএসের শীর্ষ পদাধিকারীরা থাকবেন।
আরএএস সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের বহু শাখা বন্ধ হয়েছিল। এবারের নির্বাচনের পর সেই শাখাগুলি খুলেছে। আগামী দিনে আরও বেশি সংখ্যায় শাখা খোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে মোহন ভাগবত বর্ধমানে এসে বলেছিলেন, আরএসএসের দরজা সবার জন্য খোলা রয়েছে। যে কেউ প্রবেশ করতে পারেন। আরএসএসের এক নেতা বলেন, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পিছনে সংগঠনের বড়ো ভূমিকা ছিল। প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে কার্যকর্তারা কাজ করেছেন। কিন্তু, সরকার গঠনের পর আরএসএসের কার্যকর্তারা স্থানীয়স্তরে সেভাবে গুরুত্ব পাচ্ছেন না। তাঁদের মারধরের ঘটনাও হয়েছে। আগামীদিনে আরএসএসের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও আলোচনা হবে। আরএসএস প্রধান কার্যকর্তাদের কথা শুনবেন। সেইমতো সময় ঠিক করা হয়েছে। আলোচনায় এই বিষয়গুলি উঠে আসতে পারে।
আরএক আরএসএস নেতা বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের পর বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় তোলাবাজি বা জরিমানা আদায়ে বিজেপি নেতাদের নাম জড়িয়ে যাচ্ছে। তাতে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আগামী দিনে সংগঠন বিস্তারেও আরএসএসের পুরানো কার্যকর্তাদের যাতে গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেই বিষয়টিও উত্থাপন করা হবে। তবে সব কর্মসূচি ‘ইনডোর’ হবে। বিধানসভা ভোটের আগে বর্ধমানে আরএসএস প্রধান প্রকাশ্যে সভা করেছিলেন। টানা কয়েকদিন তিনি বর্ধমানে ছিলেন। তার সুফল বিজেপি পেয়েছে। মধ্যবঙ্গেও তাদের নজরকাড়া ফলাফল হয়েছে। এবার লোকসভা নির্বাচনের জন্যও ঘুঁটি সাজানোর প্রক্রিয়া এই সফর থেকে হতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন।