


ঢাকা: হাসিনার আমলে বাংলাদেশজুড়ে একাধিক বিশৃঙ্খলায় নাম জড়িয়েছিল আওয়ামি লিগের নীচুতলার কর্মীদের। অর্ন্তবর্তী সরকারের আমলে একই অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিল তথাকথিত ‘জুলাই বিপ্লবীরা’। গত ফেব্রুয়ারিতে সেদেশে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। তবে বাংলাদেশ সেই তিমিরেই। গত কয়েকদিনে রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ইউটিউবার সলমন মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর-লুটপাট, আদাবরের আবাসন দখল- সবক্ষেত্রেই বারবার নাম জড়িয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীদের। যা নিয়ে দৃশ্যতই অস্বস্তিতে পড়েছে তারেক রহমানের সরকার। এমনকি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিষয়টি স্বীকারও করে নিয়েছেন তারেকের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ-উর-রহমান।
ঢাকার মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নিম্নবিত্ত মানুষের বড়ো ভরসা। অভিযোগ, গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে সেখানে হামলা, লুটপাট চালায় শ’দুয়েক দুষ্কৃতী। ওষুধ, ভ্যাকসিন, যন্ত্রপাতি সহ ১১ লক্ষ টাকা লুঠ করা হয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে। ঠিক তার পরের দিন রাত সাড়ে দশটা নাগাদ ঢাকার ইসিবি চত্বরে ইউটিউবার সলমন মুক্তাদিরের স্টুডিয়োতে হামলা চালানো হয়। দুটি ট্রাকে করে এসেছিল দুষ্কৃতীরা। লুটপাট করা হয় নগদ টাকা, মোবাইল ও স্টুডিয়োর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। সেদিনই মহম্মদপুরের একটি হাউজিং সংস্থার অফিস ও আদাবরের একটি আবাসনে হামলা হয়। প্রতিটি ঘটনাই ঘটেছে রাজধানী ঢাকায়। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই নাম জড়িয়েছে শাসকদল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি) নেতাকর্মীদের। এদের মধ্যে সলমনের স্টুডিয়োটি অবস্থিত খোদ তারেক জিয়ার সংসদ এলাকায়।
স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় শাসকদলকে তোপ দেগেছে বিরোধীরা। জামাতের আমির শফিকুর রহমান প্রশ্ন তুলেছেন, বিপুলসংখ্যক মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে হামলা চালানোর পরও জড়িতদের খুঁজে না পাওয়া রহস্যজনক। দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘সতর্ক না হলে কারও মুখ দেখা হবে না।’ যদিও দলের উচ্চ পর্যায়ের সেই বার্তাতে নেতাকর্মীরা আদৌ কর্ণপাত করছেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।