


রাজদীপ গোস্বামী, মেদিনীপুর: রাজনীতির অঙ্কে বাংলায় কৌলিন্য হারাচ্ছে গেরুয়া আবির। কেনাকাটা হচ্ছে খুবই কম। গত ক’ দিন মেদিনীপুর, খড়্গপুর সহ একাধিক গ্রামীণ বাজারে ঢু মেরে এমনিই তথ্য মিলল। তবে লাল-হলুদ-নীল-সবুজ আবিরের বিক্রি অনেকটাই বেড়েছে। কিন্তু কেন গেরুয়া আবিরে মানুষের মোহভঙ্গ? ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সুশীল সমাজের একটা বড় অংশ একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের উগ্র বিভাজনের রাজনীতিকে দায়ী করেছে। তাঁদের বক্তব্য, গেরুয়া রং হল ত্যাগের প্রতীক। সেটাকে ধর্মীয় বিভাজনের নোংরা রাজনীতিতে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মাথায় গেরুয়া ফেট্টি, কপালে গেরুয়া তিলক কেটে বিদ্বেষ বিষ ছড়ানো হচ্ছে। সম্প্রীতির বঙ্গ এসব গ্রহণ করবে না। তাই, গেরুয়া আবির থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন অনেককেই। এদিন কথা হচ্ছিল মেদিনীপুর শহরের আবির ব্যবসায়ী গুরুপদ দাসের সঙ্গে। তিনি বলেন, আবিরের ভালোই বিক্রি আছে। তবে গেরুয়া আবিরের চাহিদা নেই। লাল প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। কিছু প্যাকেট গেরুয়া আবির এনেছি। বিক্রি হবে কি না, জানা নেই।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটের পর থেকেই গেরুয়া রঙের ছটা চারিপাশে ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় থেকে রঙিন চুল, কানে দুল, মুখে গেরুয়া আবির মেখে সাইলেন্সার বিহীন বাইক নিয়ে দাপাদাপি করতে এক রাজনৈতিক দলের নেতাদের হামেশাই দেখেন সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি, বন্দে ভারত ট্রেনে গেরুয়া রং করায়, নাক সিঁটকে ছিলেন অনেকেই। সেই ট্রেন্ড আবিরের বাজারেও। মেদিনীপুরের চিকিৎসক রাজীব দে বলেন, ছোটবেলা থেকে আবির বলতে গোলাপী ও লাল রংই বুঝি। এবারও লাল-নীল নানা রঙের আবির কিনব। মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা গৌরব দে বলেন, মেদিনীপুর জেলার বসন্ত উৎসবের ইতিহাস বহু পুরনো। একসময়ে বিভিন্ন জমিদার বাড়িতে রঙের উৎসব হতো। জেলার স্বাধীনতা সংগ্রামীরাও এই উৎসবে শামিল হতেন। আগেও আবির ছিল, রাজনীতি ছিল। আবির তো ছেড়েই দিলাম, এখন ‘রঙ্গ দে মোহে গেরুয়া’ গাইলেও রাজনীতি হয়। এনিয়ে রাজনৈতিক তরজা চরমে উঠেছে। মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ সভাপতি শঙ্কর গুছাইত বলেন, গেরুয়া রং পথ দেখাবে। গেরুয়া আবির মেখে আমার বসন্ত উৎসবে মেতে উঠব। মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, গেরুয়া জানতাম ত্যাগের প্রতীক। এক রাজনৈতিক দলের দাপটে সাধারণ মানুষকে স্বপ্ন, ইচ্ছে ত্যাগ করে এসআইআরের লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। তাই হয়তো গেরুয়া আবিরের বিক্রি কম।