


সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: অনেক আগেই জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয়েছে। তবে সেই পরম্পরা বদলায়নি। সেই পুরনো ঐতিহ্য মেনে আজও আমতার তাজপুরে রায় পরিবারের শ্রীধরের রথের রশিতে টান দেন হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ। দামোদরের পশ্চিমপাড়ে তাজপুর গ্রামের এই রথযাত্রাকে ঘিরে বহু বছর ধরে চলে আসছে সম্প্রীতির বাতাবরণ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৩০০ বছর আগে বর্ধমানের মহারাজার কাছ থেকে জমির ইজারা নিয়ে এই এলাকায় জমিদারি শুরু করেছিলেন মুকুট রায়। পরবর্তী সময়ে তিনি দুর্গাপুজো, দোলযাত্রার পাশাপাশি রথযাত্রাও চালু করেছিলেন।
রায় পরিবার সূত্রে খবর, ১৯৪৮ সালে রথযাত্রার দিন সাম্প্রদায়িক অশান্তির কারণে রথের রশি টানা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। সেদিন গ্রামের লোকজনকে ডেকে এনে নিজেই রথির রশি টেনেছিলেন সারদা গ্রামের বাসিন্দা রাজ পরিবারের কর্মী আব্দুল খালেক কাজি। তাতে যোগ দিয়েছিলেন রাজ পরিবারের সদস্যরাও। সেই শুরু। তারপর থেকেই আব্দুল কাজি রথের রশি ধরার পর বাকিরা হাত দিতেন ওই দড়িতে। এখন খালেক সাহেবের পর তাঁর ছেলে সাকু কাজি দায়িত্ব নিয়েই এই কাজ করে চলেছেন।
রায় পরিবারের সদস্য মানস রায় বলেন, এই পরিবারের রথ লোকমুখে শ্রীধরের রথ নামেই পরিচিত। জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার জায়গায় রায় পরিবারের রথে অধিষ্ঠিত থাকেন পরিবারের কুলদেবতা শালগ্রাম শিলা শ্রীধর। রথের দিন পুজোর পর কুলদেবতাকে পালকিতে চাপিয়ে তাজপুর রথতলায় রথের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর ন’বার প্রদক্ষিণের পর সুসজ্জিত রথে চাপানো হয় দেবতাকে। প্রায় আড়াইশো ফুট টেনে নিয়ে যাওয়ার পর রথ থেকে কুলদেবতাকে নামিয়ে পালকিতে করে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয় রায় বাড়িতে। তবে তাঁকে রাখা হয় অন্য ঘরে। সেই ঘরটি উল্টোরথ পর্যন্ত হয়ে ওঠে মাসির বাড়ি। উল্টোরথের দিন ফের কুলদেবতাকে পালকিতে করে নিয়ে গিয়ে রথে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় রথতলায়। সেখান থেকে পালকিতেই নিজের ঘরে ফেরেন দেবতা। মানসবাবু বলেন, সোজা ও উল্টোরথ— দু’দিনই মেলা বসে। পুরানো রীতি মেনে আজও সকলের সঙ্গে রথের রশিতে টান দেবেন কাজি পরিবারের সদস্যরা। তাজপুর গ্রামের বাসিন্দা আমতার বিধায়ক সুকান্ত পাল বলেন, ছোট থেকেই দেখছি, রায় পরিবারের প্রতিটি উৎসবে কাজি পরিবার উপস্থিত। এদিন সামনে দাঁড়িয়ে রথের রশিতে টান দেবেন সাকু কাজি ও মানস রায়। সম্প্রীতির বার্তা দেবেন তাঁরা। নিজস্ব চিত্র