


সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: দুর্দিনে এ রাজ্যে আরএসএসের পাশে ছিল না বিজেপি। ২০২১ সালে বাংলা দখলের স্বপ্ন অধরা থেকে যেতেই বন্ধ হতে থাকে একের পর এক শাখা অফিস। এখনও বর্ধমান, বীরভূম, হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলিতে হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া আর সবই প্রায় বন্ধ। সেগুলি খুলতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি। তা নিয়ে ক্ষোভ ছিলই। এবার শিয়রে ভোট। যথারীতি ময়দানে নামার অনুরোধ এসেছে বিজেপির তরফে। কিন্তু, একুশের মতো সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে নারাজ রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ। সেবার সংঘের নেতা-কর্মীরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে প্রচার করেছিলেন। এবার ঠিক হয়েছে, প্রার্থী দেখে দেখে প্রচারকার্য করবেন। তার মানে বিজেপিকে বার্তা খুব স্পষ্ট, যে সকল প্রার্থীর আরএসএসের ব্যাকগ্রাউন্ড থাকবে, তাঁকে জেতাতেই কোমর বেঁধে নামবে সংঘ। বাকি প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ‘পরে ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে’ বলে অবস্থান ঠিক করা হয়েছে।
সংঘের এক দাপুটে নেতা ঘরোয়া আড্ডায় বলছিলেন, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে সর্বশক্তি নিয়ে প্রচারে নেমেছিলাম। ২০১৯ সালের বিজেপির সাফল্যের পিছনে আরএসএসের অবদান কম ছিল না। কিন্তু, ২০২১ সালে বিজেপির এ রাজ্যে ভরাডুবির পর মোদি এবং অমিত শাহরা আমাদের সংগঠনের দিকে ফিরেও তাকাননি। বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল শাখা অফিসগুলি। খোলার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেননি। এবার আমরা একটু বুঝেশুনে পা ফেলতে চাই।
এক বছর আগে মোহন ভগবত বেশ কয়েকদিন বর্ধমানে কাটিয়ে গিয়েছিলেন। সেই সময় অনেকেরই ধারণা হয়েছিল, বাংলায় মিশন ছাব্বিশেও আরএসএস পুরোদমে ময়দানে নামবে। কিন্তু অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকায় অনেকেই মাঠে নামতে রাজি নন। সংঘের আর এক নেতার কথায়, সংগঠনের ভূমিকা কি হবে, তা যে কোনও নির্বাচনের অন্ততপক্ষে তিন মাস আগে ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু এবার এখনও পর্যন্ত ‘জাগরণ’ হয়নি। দিল্লির নেতারা আরএসএসকে ময়দানে নামাতে মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু আমার মনে হয়, এবার খুব সহজে সব প্রার্থীর হয়ে প্রচারে যাবে না সংঘ।
একুশের ভোটের আগে রাজ্যে এক হাজারের বেশি শাখা ছিল আরএসএসের। এখন সেই সংখ্যা পাঁচশোর নীচে নেমে গিয়েছে। পূর্ব বর্ধমান, বীরভূমের মতো জেলাগুলির হাল সবচেয়ে খারাপ। সংগঠনের দাবি, আরএসএস কখনই কোনও রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা চায় না। সংগঠন নিজের গতিতে এগিয়ে যায়। কিন্তু তারপরও খারাপ দিনে যাদের পাশে থাকার দরকার ছিল তাঁরা না থাকায় ক্ষোভ বেড়েছে। সংগঠনের একাংশ নেতার মতে, ২০২১ সালে বিজেপিকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করতে গিয়ে সংগঠনের ক্ষতি হয়েছে। তার আগে নতুন করে একের পর এক শাখা এ রাজ্যে খোলা যাচ্ছিল। কিন্তু ভোটে বিজেপি পরাস্ত হলে নতুন করে শাখা খোলা তো দূর, পুরানো শাখাগুলিই চালু করা যায়নি। আরএসএসের নেতারাই ২০২১ সালের পর টার্গেট হয়ে গিয়েছিলেন। সেই কারণে এবার নিজেদের সংগঠন থেকে উঠে আসা প্রার্থী ছাড়া ময়দানে না নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংঘ। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র অবশ্য সংঘের অবস্থান নিয়ে কিছু না বললেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমাদের কর্মসূচি চলছেই। বিজেপি এবার ক্ষমতায় আসার জন্যই লড়বে।’