


সঞ্জয় সরকার, কলকাতা: মাঠের মধ্যে ফাঁসির মঞ্চ। সামনে দাঁড়িয়ে ভগৎ সিংয়ের মূর্তি। ঠিক পিছনেই মূল মণ্ডপের গায়ে জ্বলজ্বল করছে ত্রিবর্ণরঞ্জিত ভারতের মানচিত্র। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নামতেই আলোর মাধ্যমে তাতে ফুটে উঠছে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের লড়াইয়ের কথা। মণ্ডপের ঠিক উপরের দিকে গড়ে তোলা হয়েছে দিল্লির লাল কেল্লা। আর তার গায়ে রয়েছে দেশভাগের খণ্ডখণ্ড চিত্র। মাঠের আরেক ধরে রাখা এক আস্ত রেলের ইঞ্জিন। পাশের দেওয়ালে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কলকাতার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। শিয়ালদহের লেবুতলা পার্কের সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে এবারের থিম ‘সনাতনী চেতনায় বন্দে মাতরম’। যেখানে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের টুকরো চিত্র বা প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা হয়েছে।
সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার (লেবুতলা) সর্বজনীন দুর্গাপুজো শুরু ১৯৩৬ সালে। স্বাধীনতা সংগ্রামী সন্তোষ মিত্রকে উৎসর্গ করেই এই পুজোর নামকরণ। প্রতি বছর পুজোয় দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ চমকের বন্দোবস্ত করা হয়। দিল্লির লালকেল্লা থেকে আমেরিকার লাস ভেগাসের স্পিয়ারের অডিটোরিয়াম— গত কয়েক বছর একের পর এক থিমে চমক দিয়েছে পুজোর উদ্যোক্তারা। গত বছর অপারেশন সিঁদুরের মধ্যে দিয়ে সারা ফেলেছিল তারা। মণ্ডপে পহেলগাঁও এবং লাইট অ্যান্ড সাউন্ডে অপারেশন সিঁদুর ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। যা দেখে মুগ্ধ হন অনেকেই। এবারও চমকে মোড়া মণ্ডপ দেখে দর্শনার্থীরা আরও অনেক বেশি খুশি হবেন বলেই আশা উদ্যোক্তাদের।
এবার ৯১ বছরে পা রাখছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার। মণ্ডপসজ্জার দায়িত্বে শিবশঙ্কর দাস। প্রতিমার দায়িত্বে মিন্টু পাল। সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার পুজোর অন্যতম কর্তা কথা সজল ঘোষ জানান, ‘বিগত কয়েক বছর পুজো আয়োজন করতে গিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক বিধি নিষেধের মুখে পড়তে হয়েছে। বিশেষত পুলিশের বেশ কিছু কর্তা ঘণ্টার ঘণ্টায় নতুন নতুন ফতোয়া জারি করতেন। এবার তা মিস করছি। তবে মানুষ সবসময় আমাদের আপন করে নিয়েছিল। কোনো বাধায় তাঁদের আটকাতে পারেননি। এবার তো আরও বেশি উৎসাহের সঙ্গে মানুষ এই পুজো দেখতে আসবেন বলেই আশা করছি।’
রবিবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে এই পুজোর মণ্ডপ। হাজির ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপির শীর্ষকর্তা শমীক ভট্টাচার্য ও অনান্য নেতৃবৃন্দ। প্রথম দিন থেকেই সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজো দেখতে নেমেছে মানুষের ঢল। ফলে শুরুতেই হিট থিম বন্দে মাতরম।