


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বাঁশবেড়িয়া পুরসভার নিজস্ব উন্নয়ন থেকে সপ্তগ্রামে বিধায়কের উন্নয়ন, বাংলার বাড়ি প্রকল্প। হুগলির সপ্তগ্রাম বিধানসভায় প্রচারের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলি ভরন্ত। প্রচার পরিকল্পনাও ইতিমধ্যে প্রায় চূড়ান্ত। সেখানে রাজ্য সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিশ্চিতভাবে আছে, কিন্তু স্থানীয় উন্নয়নেই প্রচারের সুর সাধতে চাইছে সপ্তগ্রামের তৃণমূল। সরকার ও বর্তমান শাসক দলের বিধায়ককে নিয়ে না-খুশ জনতার একটি সামান্য অংশ ছাড়া বিরোধীদের প্রচারের বিষয় কার্যত নেই। বাঁশবেড়িয়া ও ত্রিবেণীতে রেলপ্রকল্প নিয়ে নাগরিক মহল্লার অভাব-অভিযোগ প্রচারে খাড়া করতে চায় বাম থেকে কংগ্রেস। ফলে পক্ষের ইস্যু তেমন না থাকলেও বিজেপি বিরোধিতার ক্ষেত্র প্রচারের প্রাক্কালেই প্রস্তুত।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, বিজেপির হাতে প্রচারের কিছু মোক্ষম অস্ত্র থাকলেও তা কতটা তারা ব্যবহার করতে পারত, তা নিয়েও সংশয় আছে। কারণ, গত কয়েক বছর ধরে সাবেক বন্দরশহর সপ্তগ্রামে বিজেপির ‘দণ্ডমুণ্ডের কর্তা’ ছিলেন দেবব্রত বিশ্বাস। ২০২১ সালে শাসক দলের বিরুদ্ধে পদ্মপার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেন তিনি। কিন্তু হেরে যান। সদ্য তিনি ‘ফুলবদল’ করেছেন। চলে এসেছেন তৃণমূল শিবিরে। প্রচারপর্বে এই ঘটনার মোকাবিলাও সবার আগে করতে হবে বিজেপি-কে। তথ্যভিজ্ঞ মহলের মতে, এমনিতেই স্থানীয় ইস্যু বিজেপির কাছে কার্যত নেই। তারপরে রেলপ্রকল্প থেকে দেবব্রত, বিজেপিকে বহু রকম প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে প্রচারে বেরলেই। ফলে কিছু ইস্যু থাকলেও তা কতটা জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারেবে পদ্মপার্টি, সংশয় আছে। সপ্তগ্রামের বর্তমান বিধায়ক তপন দাসগুপ্ত পোড়খাওয়া নেতা। তিনি বলেন, ‘সপ্তগ্রামকে রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্পে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। কমিউনিটি হল থেকে নিজস্ব রাস্তা, পথশ্রী, বাংলার বাড়ি, অলি-গলি-রাজপথ ঝাঁ চকচকে করে দেওয়া হয়েছে। বাঁশবেড়িয়া পুরসভায় স্টেশনে যাওয়ার বিকল্প পথ, নিকাশি সমস্যার সমাধান, ত্রিবেণী পুণ্যতীর্থে শ্মশানের উন্নয়ন, এরকম প্রচুর কাজ হয়েছে। সবটাই মানুষ দেখেছে। প্রচারে এসবই থাকবে।’ হুগলির সিপিএম নেতা মনোদীপ ঘোষ বলেন, ‘ত্রিবেণী বাজারের অর্থনীতিক নষ্ট করে দিচ্ছে যানজট। এর মূলে আছে রেলের পরিকল্পনার অভাব। রাজ্য সরকারকেও আরওবি তৈরি না করা সহ একাধিক ত্রুটির দায় নিতে হবে।’ যদিও বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘সপ্তগ্রাম নিয়ে প্রচারের ইস্যুর কোনো অভাব বিজেপির নেই। কারণ, ওই বিধানসভা এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া সামান্যও পৌঁছায়নি। ব্যক্তিগতভাবে কিছু মানুষের উন্নয়ন হয়েছে। প্রচার পর্ব আসুক, আমরা সরকারের উন্নয়নের ফাঁকা বুলি ফাঁস করে দেব।’
কোনো আশ্চর্য কারণে সপ্তগ্রাম বিধানসভা নিয়ে গত একাধিক নির্বাচনে বিরোধীদের খুবই আত্মবিশ্বাসী দেখিয়েছে। যদিও ফলাফলে শেষ হাসি হেসেছে তৃণমূলই। প্রচারপর্বে বিরোধীদের বিশেষত, বিজেপির তৎপরতা ছিল দেখার মতো। পরিস্থিতি এবার কিছুটা আলাদা। ফলে সপ্তগ্রামের প্রচার পর্বের দিকে কৌতূহলি নজর থাকবে ওয়াকিবহাল মহলের।