


সোমেন পাল, গঙ্গারামপুর: বিধানসভা নির্বাচনের মুখে গঙ্গারামপুরে উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতির লড়াই ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। বিজেপি বিধায়ক সত্যেন্দ্রনাথ রায় দাবি করছেন, তাঁর বিধায়ক তহবিলের সাড়ে তিন কোটি টাকার পুরোটাই এলাকার উন্নয়নে খরচ করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, কেন্দ্রীয় প্রকল্পে ঘোষিত কাজের অগ্রগতি কোথায়?
বিধায়কের দাবি, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তিনটি বিধানসভা বিজেপির দখলে থাকলেও একমাত্র তিনিই বিধায়ক তহবিলের সম্পূর্ণ টাকা খরচ করেছেন। তাঁর তহবিল থেকে ছোট দৈর্ঘ্যের কংক্রিটের ঢালাই রাস্তা, কালভার্ট নির্মাণ, জলের সাব মার্সিবল, সোলার লাইট, শ্মশান ঘাটের পরিকাঠামো উন্নয়ন, নিকাশি নালা সংস্কার ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য হুইল চেয়ার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলায় পর্যটন শিল্পের প্রসারে গঙ্গারামপুরে কেন্দ্রীয় প্রকল্প এনে কাজ শুরু করেছেন। কৃষকদের সেচ সুবিধার জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পে ১৬টি সোলার পাম্প হাউস তৈরি হয়েছে। যেখানে প্রতিটি প্রকল্পে ৩০ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ হয়েছে।
তবে এই সমস্ত দাবি সত্ত্বেও বিধায়কের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ। গঙ্গারামপুর শহরে অবস্থিত বাণগড় পর্যটন কেন্দ্রের জন্য তিন কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও কাজের গতি অত্যন্ত ধীর বলে অভিযোগ। পাঁচ বছরেও পর্যটন কেন্দ্রটির সুফল না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে শহরবাসীর মধ্যে। অন্যদিকে, শহরে বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক শক্ত হলেও অমৃত ভারত প্রকল্পের আওতায় গঙ্গারামপুর রেলস্টেশন না আসায় অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিজেপি বিধায়করা কেন্দ্রীয় প্রকল্প এনে এলাকার উন্নয়নে দৃশ্যমান ছাপ রাখতে ব্যর্থ।
এপ্রসঙ্গে সত্যেন বলেন, বিধায়ক তহবিলের টাকায় যা কাজ করেছি, চ্যালেঞ্জ করে বলছি শাসক দলের বিধায়করাও তা করতে পারেননি। বিরোধী দলে থেকেও সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করেছি। উপেক্ষিত বাণগড় পর্যটন কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ এনেছি। নির্বাচনের আগেই ২৫ লক্ষ টাকার পথবাতি বসানো হচ্ছে।
শহরের বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক রাজু কুণ্ডু বলেন, বিধায়ক তহবিলের উন্নয়ন শহরে তেমন চোখে পড়ে না। রেলস্টেশনের কিছু কাজ হয়েছে, শুনেছি স্টেশনের মুখে একটি গেট হবে। পর্যটন কেন্দ্র ঘেরা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে, এর বাইরে বিশেষ কিছু নেই। বিধায়কের কাছে প্রত্যাশা অনেক ছিল, তা পূরণ হয়নি।
তৃণমূল কংগ্রেসও কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছে। গঙ্গারামপুর বিধানসভার তৃণমূল কনভেনর গৌতম দাস বলেন, বিজেপি বিধায়কদের সবটাই ফাঁকা আওয়াজ। বিধায়ক তহবিলে কী কাজ হয়েছে? সাধারণ মানুষ কিছু বলতে পারছে না। বাণগড়ে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ এসেছিল। কাজ শেষ হলে খুশি হতাম, সেটাও হয়নি। অমৃত ভারত প্রকল্প গঙ্গারামপুর পেল না। জেলায় কেন্দ্রের শিক্ষামন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও একটি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় নেই।