


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: লক্ষ্য তফসিলি জাতি উপজাতিভুক্তদের কর্মসংস্থান। এজন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান সহ আর্থিক সহায়তার একঝাঁক প্রকল্প পরিচালনা করে কেন্দ্রের ন্যাশনাল শিডিউল কাস্টস ফিনান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন বা তফসিলি আর্থিক উন্নয়ন পরিষদ। এক্ষেত্রে কোনও শিল্পস্থাপনের জন্য ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদান করা হয়। এমনকী ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার মধ্যে কোনও ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে তুলতেও রয়েছে লোনের সুবিধা। উদ্যম নিধি যোজনায় ৫ লক্ষ টাকার কোনও শিল্প লগ্নিতে ৯০ শতাংশ ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। মূলত স্বল্প সময়ের জন্য অর্থাৎ শর্ট টার্ম স্কিল উন্নয়নের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে পরিষদ। ১৯৮৯ সাল থেকে এই প্রকল্প চলছে। যদিও ২০২০ সালে সামাজিক ন্যায় মন্ত্রক চালু করেছে নতুন প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রী দক্ষ যোজনা। তারপর থেকে আর সরাসরি এই প্রকল্পগুলিতে ওই পরিষদ মাথা ঘামায় না। তবে আর্থিক বরাদ্দ অথবা অনুমোদন করে। লক্ষ্যণীয়ভাবে দেখা যাচ্ছে, তফসিলি উন্নয়ন পরিষদের মাধ্যমে ক্রমেই উপভোক্তার সংখ্যা কমছে। বিগত দুই বছর ধরে উদ্বেগজনকভাবে কমে গিয়েছে প্রশিক্ষণ, বরাদ্দ এবং উপকৃতর সংখ্যা। কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যয় মন্ত্রকের রিপোর্ট থেকে এই তথ্য জানা গিয়েছে।
রিপোর্ট অনুসারে, ২০১৭ সালে যেখানে ১ লক্ষ ৮ হাজারের বেশি উপভোক্তা এই পরিষদের মাধ্যমে প্রকল্পের সুযোগ পেয়েছে। সেখানে বিগত আর্থিক বছরে এই উপভোক্তার সংখ্যা কমতে কমতে হয়েছে ৪১ হাজার। ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত অর্থাৎ চলতি অর্থবর্ষের প্রথম তিন মাসে সংখ্যাটি ১৬৭৬। বিগত আর্থিক বছরের অর্থ বন্টন হয়েছিল ৬১১ কোটি টাকা। আর এই বছর প্রথম ত্রৈমাসিকে আর্থিক বন্টনের পরিমাণ মাত্র ৬৯ কোটি টাকা। দেখা যাচ্ছে, ন্যাশনাল শিডিউল কাস্টস ফিনান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের মাধ্যমে যখন সরাসরি প্রকল্প চলছিল তখন লাগাতার কমবেশি বিগত ১০ বছর ধরে একই ধারা বজায় থেকেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী দক্ষ যোজনার মধ্যে এই প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই যেন ভাটা পড়েছে উদ্যমের। এমনকী নামমাত্র বরাদ্দ করা হচ্ছে।