


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সারবে একাধিক কঠিন অসুখ। এমনকী সুরাহা হতে পারে কোলন ক্যানসারের চিকিৎসাতেও। মেঘালয়ের জঙ্গলে এমনই এক লুপ্তপ্রায় উদ্ভিদের হদিশ পেয়েছেন নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন গবেষক। এই ‘বিশল্যকরণী’র পাতা কীভাবে বিজ্ঞানসম্মতভাবে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে ব্যবহার করা সম্ভব হবে, তার সুলুক সন্ধানের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছেন ওই গবেষকরা। গত অক্টোবর মাসে তাঁদের এই সাফল্যের খবর প্রকাশিত হয়েছে ‘কেমিস্ট্রি অ্যান্ড বায়োডাইভার্সিটি’ শীর্ষক সায়েন্স জার্নালে।
নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ফরেস্ট্রির সহকারি অধ্যাপক ডঃ ময়ূর এম ফুকানের নেতৃত্বাধীন গবেষক দল এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে তাঁদের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে অসমের একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গবেষকদের দাবি, বিভিন্ন দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসা পদ্ধতিতে এহেন লুপ্তপ্রায় উদ্ভিদের হদিশ আক্ষরিক অর্থেই নতুন দিগন্ত খুলে দিতে চলেছে। লুপ্তপ্রায় ওই উদ্ভিদের বিজ্ঞানসম্মত নাম ‘গোনিওথ্যালামাস সিমোনসি’। গবেষকরা জানিয়েছেন, মেঘালয়ের প্রাচীন উপজাতির মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই এই উদ্ভিদের পাতা ব্যবহার করছেন নিজেদের রোগ নিরাময়ের জন্য।
জানা যাচ্ছে, পেটে গ্যাসের সমস্যায়, কিংবা টাইফয়েড অথবা ম্যালেরিয়া জ্বর বা প্রচণ্ড গলা ব্যথায় প্রাচীন উপজাতির মানুষ এই পাতা ব্যবহার করে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন। স্বাভাবিকভাবেই রোগটি যে টাইফয়েড কিংবা ম্যালেরিয়া, তা উপজাতিদের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। কিন্তু গবেষণার সময়ে উপজাতির লোকজনের কাছে বিভিন্ন রোগের উপসর্গ খোঁজ নেওয়া হয়। তা থেকেই স্পষ্ট, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, গ্যাস্ট্রো-ইন্টেসটিনিয়াল কমপ্লিকেশন, গলা ব্যথায় ‘গোনিওথ্যালামাস সিমোনসি’ কার্যত ম্যাজিকের মতো কাজ করছে। ওই গবেষক দলের দাবি, লুপ্তপ্রায় উদ্ভিদটি খুঁজে পেতে স্থানীয় উপজাতির মানুষের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা যে দুরারোগ্য সব ব্যধিরই স্থায়ী নিরাময়ের উপায় খুঁজে পেয়েছে, এমন মোটেও নয়। বিশেষ করে ক্যানসারের ক্ষেত্রে চিকিৎসা ব্যবস্থা আগের তুলনায় অনেক উন্নত হলেও এ নিয়ে নিরন্তর গবেষণা হয়েই চলেছে। নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষকরা জানিয়েছেন, পরীক্ষাগারে ওই উদ্ভিদে এমন কিছু উপাদান মিলেছে, যা কোলন ক্যানসারের বংশবিস্তার রোধী ‘এজেন্ট’ হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। গবেষক দলের অন্যতম বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ স্কলার স্যামসন রোজলি সাংমা জানিয়েছেন, ওই উপাদান ক্যানসার রোধকারী উপাদানের প্রাকৃতিক উৎস। কিন্তু তা বেটে রোগীকে খাওয়ালেই তো হবে না। আধুনিক চিকিৎসার সঙ্গে এর সমন্বয় ঘটাতে হবে। সেই কাজই চলছে। জানা যাচ্ছে, খুব শীঘ্রই এর ক্লিনিক্যাল স্টাডি শুরু হতে চলেছে।
গোনিওথ্যালামাস সিমোনসি। ছবি: সমাজমাধ্যম