


নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: কিছুদিন আগেই শিশুমৃত্যু নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় মালদহ মেডিকেল কলেজকে। আর তার পর খোদ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর সারপ্রাইজ ভিজিটে ধরা পড়ে, বেশিরভাগ ওয়ার্ডেই সিনিয়র ডাক্তারের দেখা নেই। মন্ত্রী নিজে যা দেখার দেখেন, রোগীরা তাঁকে সামনে পেয়ে মালদহ মেডিকেলের নানা অব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ করেন। এরপরই মালদহ মেডিকেলকে কড়া দাওয়াই দিল স্বাস্থ্যভবন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, স্বাস্থ্যভবনের তরফে মালদহ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ওয়ার্ডে সিনিয়র চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। শুধুমাত্র মেডিকেল অফিসারের ভরসায় শিশু বিভাগ চালানো যাবে না। আরও বেশি করে চিকিৎসকের বন্দোবস্ত করতে হবে। যে কোনো উপায়ে ঠেকাতে হবে শিশুমৃত্যু। অবিলম্বে যদি মালদহ মেডিকেলে চিকিৎসা পরিষেবার হাল না ফেরে, সেক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যভবনের এ হেন দাওয়াইয়ের পরই নড়েচড়ে বসেছে মালদহ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। সোমবার মালদহ মেডিকেলের এমএসভিপি গণেশচন্দ্র গায়েন বলেন, স্বাস্থ্যভবন থেকে বলা হয়েছে, সেইসঙ্গে আমরাও সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এখন থেকে যিনি সার্জারি বিভাগের অন কল চিকিৎসক থাকবেন, তাঁকে ওয়ার্ডে দু’বার রাউন্ড দিতেই হবে। সেইসঙ্গে তাঁকে আউটডোর এবং ওটি করতে হবে। মেডিসিন বিভাগের অন কল চিকিৎসকদের দু’বার ওয়ার্ডে রাউন্ড, ওপিডি করতেই হবে। শিশুবিভাগের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র এসএনসিইউ’র মেডিকেল অফিসারের ভরসায় ডিপার্টমেন্ট চালানো যাবে না। সেখানে ইন্টার্ন, হাউজ স্টাফ, সিনিয়র রেসিডেন্ট (এস আর) ও পোস্ট গ্রাজ্যুয়েট ট্রেনি (পি জি টি ) যেন থাকে, তা দেখতে বলা হয়েছে বিভাগীয় প্রধানকে। সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও বেশ কয়েকজন চিকিৎসক এখনও মালদহ মেডিকেলে যোগ দেননি, তা নিয়েও স্বাস্থ্যভবনে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।
গত আগস্ট মাসে একদিনে মালদহ মেডিকেলে ১০টি এবং গোটা মাসে ৮৯টি শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় পড়ে যায়। স্বাস্থ্যভবনের নির্দেশে তদন্তে বিশেষ টিম আসে। সূত্রের খবর, তারা মালদহ মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগে পরিদর্শনে এসে একাধিক খামতি খুঁজে পায়। তার মধ্যে অন্যতম অপর্যাপ্ত চিকিৎসকের উপস্থিতি। এরই মধ্যে কয়েকদিন আগে মালদহে বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসে সন্ধ্যার পর আচমকা মেডিকেল কলেজে ভিজিট করেন রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার। তিনিও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ঘুরে যাওয়ার পরই চিকিৎসা পরিষেবার হাল ফেরাতে স্বাস্থ্যভবন থেকে কড়া দাওয়াই দেওয়া হয়েছে মালদহ মেডিকেল কর্তৃপক্ষকে।
অভিযোগ, সিনিয়র চিকিৎসকদের একটা বড়ো অংশ সপ্তাহে দু-তিন দিনের বেশি ডিউটি করেন না। শুক্র, শনি ও রবিবার কার্যত কোনো সিনিয়র চিকিৎসকের দেখা মেলে না। জুনিয়র ডাক্তারদের উপর ভরসা করেই রোগী ভর্তি রাখতে হয়। এনিয়ে এমএসভিপির বক্তব্য, সবদিন তো সব চিকিৎসক থাকবেন না। অন কল যে চিকিৎসকের ডিউটি থাকবে, তিনি থাকবেন। প্রয়োজনে অন্য ইউনিটের ডাক্তারকে দিয়ে জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায় কি না দেখা হচ্ছে। আমাদের এখন মূল লক্ষ্য, শিশুমৃত্যুর হার কমানো।